ভারতের সাম্প্রতিক টেস্ট বিপর্যয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ এবং গুয়াহাটিতে দেখতে হয়েছে ৪০৮ রানের লজ্জাজনক হার। দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি দলের সেরা বোলার জাসপ্রিত বুমরাহ। অন্যদিকে, গুয়াহাটিতে আলো ছড়িয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মার্কো জানসেন। তরুণ এই পেসার বুমরাহর চেয়ে সব দিকেই এগিয়ে ছিলেন বলে মনে ইরফান।
এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে ইরফান বলেন, ‘জানসেন বুমরাহর চেয়ে সবদিকেই এগিয়ে ছিল। প্রভাবের দিক থেকে—ব্যাটিং হোক, বোলিং হোক, বাউন্স এবং উইকেট নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই সে এগিয়ে। আমরা (ভারতের মধ্যে) যাদের সেরা ভাবি, বুমরাহকে যদি সেরা ধরি, আর তার চেয়ে কেউ এগিয়ে যায়…তার মানে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।
জানসেন প্রথম ইনিংসে ৯১ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পাশাপাশি ছয় উইকেটও নেন, ভারতের ২০১ রানে অলআউট হওয়ার পেছনে ছিল তার বড় ভূমিকা। বিপরীতে বুমরাহ পুরো ম্যাচে নেন মাত্র দুই উইকেট। দুই টেস্টে জানসেনের ১২ উইকেট এসেছে মাত্র ১০.০৮ গড়ে, সেরা বোলিং ৬/৪৮; অন্যদিকে বুমরাহ চার ইনিংসে নেন আট উইকেট, গড় ১৮.৫০।
দুই ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন দক্ষিণ আফ্রিকার অফস্পিনার সাইমন হার্মার। গুয়াহাটিতে তার নয় উইকেটের পারফরম্যান্সই ছিল মূল আকর্ষণ। তার পারফরম্যান্সকে সাধুবাদ জানালেও পাঠান ভারতের ব্যাটারদের স্পিনের বিপক্ষে দুর্বল টেকনিককে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘স্পিনের বিপক্ষে আমাদের টেকনিক খুবই দুর্বল। হার্মার আমাদের স্পিনারদের ছাড়িয়ে গেছে, অসাধারণ ভ্যারিয়েশন ছিল তার। রাবাদা না থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা আমাদের ঘরের মাঠে হারিয়ে দিল।’টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে ইরফান বলেন, ‘এখন অবস্থা অত্যন্ত কঠিন। শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডে অ্যাওয়ে সিরিজ এবং ঘরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সব ম্যাচ জিততে হবে। বিশেষ করে স্পিনের চ্যালেঞ্জ থাকবে শ্রীলঙ্কা ও ঘরের মাঠে। এজন্য এখন থেকেই এমন ব্যাটার বেছে নিতে হবে যারা স্পিন ভালো খেলে।
দলে সরফরাজ খানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশীয় ক্রিকেটে যারা স্পিন ভালো খেলছে, তাদের সুযোগ দিতে হবে। সরফরাজ খানের মতো খেলোয়াড় যদি বাইরে থাকে! তার দলের বাইরে থাকা আমার বোধগম্য নয়। ওদের দলে আনতে হবে, নইলে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে যাবে।
Leave a Reply