হিমালয়ের কোলে তখনও মানুষ জানত না, কয়েক মিনিটের মধ্যেই নেমে আসতে চলেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। পাহাড়ের বরফ-শিলা ধস থেকে তৈরি প্রবল স্রোত দ্রুত নেমে আসছিল নদী উপত্যকার দিকে। অথচ যে সতর্কবার্তা মানুষের প্রাণ বাঁচাতে পারত, সেটিই পৌঁছল ৩৮ মিনিট দেরিতে। আর সেই সময়ের ব্যবধানই এখন নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৬ অগস্ট নেপালের রাসুওয়া অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ও শিলাধসের পর তৈরি হয় বিধ্বংসী হড়পা বান। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর জল ও পাথর-কাদার স্রোত ছুটে যায় নীচের বসতিগুলির দিকে। বিপর্যয়ের ভয়াবহতায় বহু মানুষ প্রাণ হারান, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হন এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ও পরিকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সতর্কবার্তা নিয়ে। জানা যাচ্ছে, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট নাগাদ হিমবাহ-শিলা ধসের ঘটনা ঘটে। কিন্তু সরকারি বিপর্যয় সতর্কবার্তা পৌঁছয় প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ৩৮ মিনিট কেটে যায় বিপর্যয়ের পর।
কিন্তু কেন এই দেরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার অন্যতম কারণ ছিল নজরদারির সীমাবদ্ধতা এবং সীমান্ত-পেরিয়ে তথ্য আদানপ্রদানের ঘাটতি। যে এলাকায় বিপর্যয়ের সূত্রপাত, সেখানে পর্যাপ্ত সরাসরি নজরদারি ব্যবস্থা ছিল না। এমনকী হিমবাহ-সম্পর্কিত এই ধরনের আকস্মিক বিপর্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট কার্যকর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হল, পরে পাওয়া উপগ্রহ-তথ্যে বিপর্যয়ের আগে পাহাড়ি অঞ্চলে একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। হিমবাহের গতি বৃদ্ধি, পলি মেশানো জলপ্রবাহ এবং পাহাড়ের শিলাস্তরে ফাটলের মতো লক্ষণ ধরা পড়েছিল বলে গবেষকদের দাবি। অর্থাৎ প্রকৃতি যে অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল, তার কিছু ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল।
Leave a Reply