বাংলা পঞ্জিকার পাতায় অগ্রহায়ন আসতে বাকি আরও কয়েকদিন। কার্তিকের শেষ লগ্নে দেশের উত্তরাঞ্চলে একটু একটু করে নেমে আসছে শীত। কোথাও কোথাও দেখা মিলছে হালকা কুয়াশা, ঘাসের ডগায় ঝুলছে শিশির বিন্দু, এই যেন শীতের আগমনী বার্তা। খবর বিবিসি বাংলাশনিবার (০৯ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের তুলনায় দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এতে গরমের অস্বস্তি কিছুটা কমবে বলেও জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, এখনো শীতকাল শুরু না হলেও শেষরাত বা ভোরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। সাধারণত দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য যখন ১০ ডিগ্রি বা তার নিচে নেমে আসে, তখনই প্রকৃত শীত অনুভূত হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীত নামতে শুরু করে। সে হিসেবে, আর কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকৃতিতে শীতের আমেজ পাওয়া যাবে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি। অর্থাৎ দিন ও রাতের পার্থক্য ১০ ডিগ্রির কম হওয়ায় রাজধানীতে এখনও শীতের অনুভূতি তেমন পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে উত্তরের জেলা নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি, যা শীতের আগমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৫ নভেম্বরের পর থেকেই দেশের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। শ্রীমঙ্গল, তেঁতুলিয়া, রাজারহাট, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা এসব এলাকায় প্রথমে ঠান্ডা অনুভূত হবে।
ঢাকায় শীত পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গেলে ও সূর্যের কিরণকাল কমে গেলে রাজধানীতেও ধীরে ধীরে শীত নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে প্রচলিত আছে প্রবাদ ‘উনো বর্ষা, দুনো শীত।’ অর্থাৎ বর্ষায় বৃষ্টি কম হলে শীতে ঠান্ডা বেশি পড়ে। এবছর বর্ষায় বৃষ্টি ছিল অনেক বেশি, এমনকি নভেম্বরের শুরুতেও হয়েছে প্রচুর বৃষ্টিপাত।
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, যে বছর বর্ষা বেশি হয়, সে বছর শীত তুলনামূলক কম পড়ে। কারণ তখন মাটিতে আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্প বেশি থাকে। তবে এই বছর যেহেতু ঋতু পরিবর্তনের ধারা কিছুটা অস্বাভাবিক, তাই শীতও আসবে ধীরে ধীরে।
ঋতুবদলের এই সময়টায় সর্দি, কাশি, জ্বর, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ফরহাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে জ্বর ও গা ব্যথাজনিত রোগী বেড়েছে। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঠান্ডা বাড়লে শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়বে।
Leave a Reply