পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের তিন স্থানীয় ক্রিকেটারসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আগামী মাসে হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। রশিদ খানদের জায়গায় সেই সিরিজে জিম্বাবুয়েকে যুক্ত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
আগামী ১৭ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিল পিসিবি। সেই সূচি অপরিবর্তিত রেখেই নতুন করে জিম্বাবুয়েকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে মহসিন নাকভির বোর্ড। এর আগে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির লক্ষ্যে এই সিরিজের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সূচি অনুযায়ী, ১৭ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচ দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু হবে। একই মাঠে ১৯ নভেম্বর লড়বে শ্রীলঙ্কা-জিম্বাবুয়ে। ২২ নভেম্বর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। সবমিলিয়ে প্রতিটি দল দু’বার করে মুখোমুখি হওয়ার পর শীর্ষ দুই দল ফাইনাল খেলবে ২৯ নভেম্বর, লাহোরে।
এর আগে গত শুক্রবার আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের আরগুন জেলার তিন ক্রিকেটার বিমান হামলায় নিহত হন। তারা প্রদেশের রাজধানী শারানায় ‘ফ্রেন্ডলি’ ম্যাচ খেলে বাড়ি ফেরার পথে নিজ এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরে আফগান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) শোক জানানোর পাশাপাশি আসন্ন ক্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।
ওই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আফগান ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানের হামলাকে বর্বর ও অনৈতিক উল্লেখ করেছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা। অন্যদিকে, পাকিস্তানি কিংবদন্তি শহীদ আফ্রিদিও আফগানিস্তানকে তুলোধুনো করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান উপকার ভুলে সীমান্তে প্রকাশ্য আগ্রাসন চালিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সেনারা যথাযথ জবাব দিয়েছে।
গত আগস্টে এশিয়া কাপের আগেও স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল দুটি দল। তবে পাকিস্তানের মাটিতে এটি হতো আফগানিস্তানের প্রথম ত্রিদেশীয় সিরিজ। এর আগে আফগানিস্তান পাকিস্তানে খেলেছে ২০২৩ সালের এশিয়া কাপে এবং চলতি বছরের শুরুতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। তবে তখন তারা স্বাগতিক পাকিস্তা
সম্প্রতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজও হয়নি। তবে টেস্ট স্ট্যাটাসের আগে আফগানিস্তানের ‘এ’ দল নিয়মিত পাকিস্তান সফর করত এবং অনেক আফগান ক্রিকেটার সেখানেই অনুশীলন করত। একসময় পাকিস্তান ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আফগান খেলোয়াড়দের খেলতেও অনুমতি দিয়েছিল।
Leave a Reply