বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে তিন ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৩ পরিচালক। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে মনোনীত হয়েছেন আরও দুইজন। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯১ জন (নরসিংদী কাউন্সিলর না থাকায় ১ জন কম)। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল ১৫৬ জনের মধ্যে ১১৫ জন ভোট দেন, যা মোট ভোটের ৭৩.৭১ শতাংশ।
যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, তেমনই হয়েছে। ক্রীড়া উপদেষ্টা ও সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম সমর্থিত প্রার্থীদের দাপট দেখা গেছে পুরো নির্বাচনে। তবে এদিকে বড় অস্বস্তির খবর, তামিম ইকবালসহ ৩৩টি ক্লাব ভোট বর্জন করেছে।
এবারের নির্বাচনে তিন সাবেক অধিনায়ক একসঙ্গে পরিচালনায় থাকছেন, আমিনুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ এবং খালেদ মাসুদ পাইলট।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ হলেও নির্বাচনে ছিল না আগের মতো উৎসবমুখরতা। বর্জন ও গুঞ্জনের মধ্যেই শেষ হয় এই নির্বাচন।জেলা ও বিভাগ থেকে আমিনুল ইসলাম ও নাজমুল আবেদিন প্রভাব ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। ১৭ ভোটের মধ্যে দুজনই পেয়েছেন ১৫টি করে ভোট।
ক্লাব কোটায় এবার নতুন মুখের ছড়াছড়ি। ১২ পরিচালকের মধ্যে ৯ জনই প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ৪২ ভোট পেয়েছেন ফারুক আহমেদ, ইশতিয়াক সাদেক ও শানিয়ান তামিম। ৪৩ ভোটের মধ্যে একটি ভোট বাতিল হয়েছে। পুরোনোদের মধ্যে কেবল মনজুর আলম ও ইফতেখার রহমান মিঠু নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন।
তবে ৭৬ কাউন্সিলরের মধ্যে ৩৩ ক্লাব ভোট দেয়নি। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তামিম ইকবাল।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ক্যাটাগরি-৩ এ। এখানে সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট একতরফা ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। তিনি ৩৫–৭ ভোটে হারিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার দেবব্রত পালকে। হেরে গিয়ে দেবব্রত অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন প্রভাবিত হয়েছে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত হয়েছেন ইসফাক আহসান ও ফয়সাল আশিক। তবে ইসফাক আহসানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার স্থানে একজন নারী পরিচালক মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রীড়া পরিষদ। আলোচনায় রয়েছেন রুমানা আহমেদ ও মনোয়ারা আনিস মিনু।
২৫ পরিচালকের মধ্যে ১৯ জনই নতুন মুখ। বাকিদের অভিজ্ঞতা এক বছর বা তারও কম। নতুন পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন- আমজাদ হোসেন, মুখলেসুর রহমান, হাসানুজ্জামান, মোকসেদুল কামাল, রাহাত শামস ও শাখাওয়াত হোসেন।
তারা জানিয়েছেন, যে কোনো কমিটির দায়িত্ব পেলে ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করতে চান।
পুরনো পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু ও মনজুর আলম প্রথমে নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে অংশ নেন এবং জয় পান।
নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই নতুন পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ চার বছর। দেশের ক্রিকেট এখন এই নতুন নেতৃত্বের হাতে- যারা নতুন উদ্যমে শুরু করতে প্রস্তুত।
Leave a Reply