বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লী বিদ্যুতের সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহকের চরম ভোগান্তির অভিযোগ গাজীপুরে ৬০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১॥ কাভার্ড ভ্যান জব্দ কবি ও সংগঠক রাহনামা শাব্বীর চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ: বেলা শেষে কেউ নেই-এর পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত নরসিংদীর মাধবদীতে হত্যা-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৯ দিনের মাথায় ৭ ডাকাত গ্রেফতার অভিনেত্রী স্নিগ্ধাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা’: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আশিয়ান চেয়ারম্যান নজরুল হালুয়াঘাট হাট-বাজার পরিস্কার -পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু হালুয়াঘাটে উল্টো রথ যাত্রার মধ্যদিয়ে শেষ হল জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা উৎসব বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ ডিসি স্বাধীন গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ

কুবি শিক্ষার্থী ও মা হত্যাকাণ্ড: আসামির ফাঁসির দাবি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
কুবি শিক্ষার্থী ও মা হত্যাকাণ্ড: আসামির ফাঁসির দাবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যলয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন ও তার মায়ের হত্যাকারী আসামির দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার টাউনহলে এই কর্মসূচি করা হয়। কর্মসূর্চিতে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিহত সুমাইয়ার ভাই সাইফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
সুমাইয়ার সহপাঠী মন্দিরা দাস বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করছি—এগুলো করার মূল উদ্দেশ্য হলো সবাইকে স্মরণ করানো যে, আমরা ভুলি নাই এবং আমাদের সহপাঠীর হত্যাকাণ্ড গভীরভাবে আমাদের মনে আছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা পুলিশ ও প্রশাসনকে জনাতে চাই, যেন তারা দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্দিষ্ট একটি সময়সীমা দিয়েছি। তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া না পেলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলন চালাব। এই ঘটনার পর থেকে আমরা গভীরভাবে ট্রমায় আছি। তিন বছর একসঙ্গে ক্লাস করা, পাশাপাশি পরীক্ষা দেয়া, এসব স্মৃতি আজ শূন্যে পরিণত হয়েছে—এটাই আমাদের জন্য বিশাল শোক ও ব্যথার বিষয়।
তিনি বলেন, পরিবার থেকে পাওয়া সহায়তা আংশিক—ছোট ভাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। কিন্তু বড় ভাই প্রায় সামনে আসেননি। এমনকি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি, যা আমাদের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন বাড়িয়েছে। আমরা চাই স্পষ্ট ও দ্রুত ন্যায়বিচার হবে। বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কিছু সাড়া দিয়েছে এবং উপাচার্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও যদি সময়মত তাদের জবাবদিহি না ঘটে, তাহলে আমরা চুপ থাকব না এবং প্রয়োজন হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।
একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, এতদিন পরও আমাদের কাছে সুমাইয়াকে কেন হত্যা করা হলো—এটি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বার্তা বা ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। পুলিশ নানা আশ্বাস দিচ্ছে, বলছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং দোষ পেলে ফাঁসিও হবে। তবে বাস্তবে আমরা এখনও কোনো বিচারমূলক অগ্রগতি দেখতে পাইনি। পনেরো দিন কেটে গেল—প্রশাসন ও তদন্তের এই ব্যবধান আমাদের অনিশ্চয়তায় রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ চাই। কেবল আশ্বস্ত করার বাক্য নয়। আমরা জানতে চাই এই হত্যাকাণ্ডে শুধুই মোবারকই দায়ী নাকি আরও কেউ জড়িত আছে—তদন্তে কী কী উদঘাটন হয়েছে তা জানতে চাই। আমরা অনিশ্চিয়তার প্রতিশ্রুতি চাই না। তাড়াতাড়ি নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট বিচারের দাবি করছি এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
নিহত সুমাইয়া আফরিনের ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার মা ও বোনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি, ঘটনার মূল আসামি পূর্বেও একই ধরনের অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। কিন্তু তাকে আগে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কেন জামিনে বাইরে ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, আমার মা ও বোনের হত্যাকারীকে দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আসামি একবার বাড়ি থেকে বের হয়ে পরে আবার ফিরে আসে। সে কোথায় গিয়েছিল এবং কী নিয়ে ফিরে এসেছে—এ বিষয়টি এখনও পরিষ্কার হয়নি। পাশাপাশি ঘটনার পনেরো দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পোস্টমর্টেম ও ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। যা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত রিপোর্টগুলো প্রকাশ করে সত্য উদঘাটন করা হোক এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুরী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সুমাইয়া আফরিন ও তার মা তাহমিনা বেগম। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মোবারক হোসেন নামক এক কবিরাজ। পুলিশ জানিয়েছে, সুমাইয়াকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মোবারক।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories