তিন মাস আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় ভারত। পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহতের ঘটনার জেরে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালালে সংঘর্ষ শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। সংঘাতের পর থেকে মাঝে মধ্যেই ওই অপারেশনের প্রসঙ্গ টেনে আনে ভারত।
এবার এনডিটিভির প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশটির বিমানবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি ‘অপারেশন সিঁদুর নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে যুদ্ধবিরতি টেবিলে আনতে ভারতীয় বিমানবাহিনী ৫০টিরও কম অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।’
এ সময় তিনি ওই অভিযানের নতুন দৃশ্য এবং বিবরণ তুলে ধরেন। নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু করা খুবই সহজ, কিন্তু শেষ করা যথেষ্ট সহজ নয় এবং এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আমাদের বাহিনীকে সক্রিয় করা যায় এবং তারা যে কোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকে।’প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৭ মে, নিয়ন্ত্রণ রেখাজুড়ে (এলওসি) চার দিনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন অনুপ্রবেশ এবং কামান যুদ্ধের পর, ভারত ও পাকিস্তান ১০ মে সন্ধ্যা থেকে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রে সমস্ত সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সম্মত হয়।
ইসলামাবাদ শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, পাল্টা হামলায় তারা ভারতের অত্যাধুনিক রাফায়েলসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। এমন দাবি জানানোর পর ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসলেও জ্যেষ্ঠ সরকারদলীয় রাজনীতিবিদ এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি শিকার করেন।
অন্যদিকে ভারত শুরুর দিকে পাকিস্তানের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তেমন কোনো দাবি না করলেও সংঘাতের কয়েক মাস পর তারা দাবি করে যে ৫টি যুদ্ধবিমান এবং একটি সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস করেছে তারা। তবে এমন দাবিকে অস্বীকার করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধানের এই দাবিকে ‘মিথ্যা, হাস্যকর ও সত্য থেকে বহু দূরে’ বলে অভিহিত করেন।
Leave a Reply