বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পল্লী বিদ্যুতের সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহকের চরম ভোগান্তির অভিযোগ গাজীপুরে ৬০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১॥ কাভার্ড ভ্যান জব্দ কবি ও সংগঠক রাহনামা শাব্বীর চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ: বেলা শেষে কেউ নেই-এর পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত নরসিংদীর মাধবদীতে হত্যা-ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৯ দিনের মাথায় ৭ ডাকাত গ্রেফতার অভিনেত্রী স্নিগ্ধাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা’: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আশিয়ান চেয়ারম্যান নজরুল হালুয়াঘাট হাট-বাজার পরিস্কার -পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু হালুয়াঘাটে উল্টো রথ যাত্রার মধ্যদিয়ে শেষ হল জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা উৎসব বাধ্যতামূলক অবসরে ৩২ ডিসি স্বাধীন গণমাধ্যম নীতিমালা তৈরিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী বাবার ইজিবাইকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝরল মেয়ের প্রাণ

মানিকগঞ্জে হাজারী গুড়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে খেজুর গাছ

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৭৯ বার

শিশির ভেজা ঘাস ও কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীত আসছে। আগমনী বার্তা পেয়ে খেজুর গাছ প্রস্তুতে কাজ শুরু করে দিয়েছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গাছিরা।

খেজুরের রস ও পিঠা না হলে শীত জমে না। শীতের আবহে সবকিছুই যেন বদলাতে শুরু করেছে। হাতে দা, বাটাল, নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা-ছোলা ও নলি বসানোর কাজ করছেন গাছিরা। কয়েকদিন পরেই গাছে বাঁধানো হবে হাঁড়ি। এরপর চলবে রস সংগ্রহের কাজ। সেই রস থেকেই খেজুরের গুড় পাটালি তৈরি করা হবে।

বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকার খেঁজুর গাছ ও হাজারী গুড় আমাদের দেশের এক বিশাল কৃষিভিত্তিক লোকায়ত সম্পদ। ব্রিটিশ শাসনামলে এই গুড়ের সুনাম এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনো এই গুড়ের কদর দেশ বিদেশে রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রস সংগ্রহের জন্য খেজুর গাছগুলোকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

ঝিটকা মধ্য পাড়া গ্রামের গাছি আলম জানান, ১৯৮২ সাল থেকে আমি খেজুর গাছ ঝোড়া ও গুড় তৈরীর কাজ করি। আরোও ২০ থেকে ২৫ দিন পরে হাজারী গুড় পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, খেজুর গাছের সংখ্যা এখন কমে যাওয়ায় রস ও গুড়ের দাম বেশি। কিন্তু এরপর চাহিদা আছে।

ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের গাছি করিম মোল্লা জানান, “বাড়ির গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে শীত মৌসুমে খেজুর গাছ কাটি। প্রতি বছরই আমরা গুড় বানাই। তবে আগের মতো এখন আর গাছ নাই। রসও তেমন হয় না। নিজস্ব গাছ কম থাকায় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে গাছ প্রতি ৫০০ টাকা করে কিনে নিয়ে কাটি। লাল গুড়ের পাশাপাশি হাজারি গুড় বানাই। এ বছর শতাধিক গাছ প্রস্তুত করেছি। ১৫ দিন পর থেকেই রস নামতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গফ্ফার বলেন, ‘কালের বিবর্তনে আমাদের দেশের খেজুর গাছগুলো অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশি বেশি খেঁজুর গাছ রোপণ করে এর চাষ বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই খেজুরের গুড়ের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে এবং গাছিরাও লাভবান হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। এই গুড় মানিজগঞ্জ জেলা ব্র্যান্ড। কিন্তু কিছু অসাধু গাছিরা বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করছে। যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছরই ভেজাল রোধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ বছরও ভেজালরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories