পটুয়াখালীর মহিপুরে বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১০৭ নম্বর বরকতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মো. কামরুল হাসান। মহিপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামরুল হাসান বলেন, গত ১১ আগস্ট শহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা সঠিক নয়। তিনি ২০১৮ সালে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং প্রায় আট বছর ধরে সেখানে কর্মরত। বর্তমানে তিনি প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা অপকর্মের কোনো অভিযোগ নেই।
বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত মালামাল মাঠে পড়ে থাকা এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ নেই।
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে কামরুল হাসান বলেন, অভিযোগকারী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এবং মহিপুর থানা ও উপজেলার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে একাধিক বৈঠক হয়। বৈঠকে বিরোধ নিষ্পত্তি ও আদালতে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে শহিদুল ইসলাম মামলা প্রত্যাহার করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্টের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটিকেও মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করেন কামরুল হাসান। তিনি বলেন, মামলা পরিচালনার প্রয়োজনে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তিনি পূর্বানুমোদিত ছুটি নিয়েছিলেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের সরকারি ছুটির দিনে আদালতের তারিখ থাকায় আলাদা ছুটির প্রয়োজন হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উপজেলা শিক্ষা অফিসে তার বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মহিপুর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমোদিত ছুটির যাবতীয় প্রমাণাদি তিনি দাখিল করেছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে ১০৭ নম্বর বরকতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তৌফিক মৃধা বলেন, আমার জানামতে, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম্পৃক্ত নন। পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু ভাঙা মালামাল বিদ্যালয়ের মাঠে পড়ে আছে। অভিযোগকারীর সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, তার সঙ্গে যে বিরোধ, তা আদালতে প্রমাণ হবে। স্কুলের মালামাল বিক্রির ঘটনা সত্য। আপনারা এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের এলাকার বাইরের একটি ইউনিয়নের বাসিন্দা। তবে তার সঙ্গে প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসানের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
Leave a Reply