গাজীপুর সদর শিববাড়ি মোড়ে অবস্থিত হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: মালিক পক্ষ হাসপাতালটির শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে একাধিক সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সেই সাথে শেয়ার ক্রেতাদের লভ্যাংশ দেয়াতো দুরের কথা, শেয়ার ক্রেতাদের দেয়া মূল টাকা ফেরৎ না দিয়ে এবং শেয়ার ক্রেতাদের না জানিয়ে যোথ মালিকাধীন মেডিকেল সেন্টারটি ৩ কোটি টাকা বিক্রি করে আত্বগোপনের চেষ্টা করছেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল-মামুনসহ তার একান্ত সহেযাগী এবং মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক মো. মোবারক হোসেন ভূইঁয়াসহ অপর তিন সহযোগী।
হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর পরিচালক এবং পুবাইল বড় খয়ের গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে শেয়ার ক্রেতা এম এ হান্নান (বর্তমানে মৃত) এর স্ত্রী মোছা: আনোয়াারা বেগম কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মহাপরচিালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাপুলিশ পরিদর্শক আইজিপি, মহাপরিচালক র্যাপিড এ্যাকশন ব্যটালয়ি র্যাব, গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার ডিআইজি, মহাপরিচালক জয়েন্ট স্টোক কোম্পানী এন্ড ফামাস, জেলা প্রশাসক গাজীপুর, জেলা সিভিল সার্জন গাজীপুরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরিত অভিযোগে মোছা: আনোয়াারা বেগম উল্লেখ করেন, আমার স্বামী মৃত এম এ হান্নান হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: যার রেজি: নং-সি-৯৯৯৯২/১২(১১মার্চ-২০১২) ১/২, আলাউদ্দিন ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ রোড, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জয়দেবপুর, গাজীপুরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ২টি ব্যবসায়িক চুক্তিনামা করে ২৬,০০,০০০/-(ছাব্বিশ লক্ষ) টাকা প্রদান করলে ১নং, ২নং ও ৩নং বিবাদীগং উক্ত টাকা আজ না কাল, কাল না পরশু আমাকে ফেরত দেবে বলে সময় কালক্ষেপণ করে যাচ্ছে। আমাকে টাকাগুলো ফেরত না দিয়ে হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: কে গোপনে অন্যত্র প্রায় ৩ কোটি টাকায় বিক্রি/হস্তান্তরের চেষ্টাসহ আমার স্বামীর বিনিয়োগকৃত টাকা আত্মসাৎ করে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পাঁয়তারা করছে।
এমতাবস্থায় আমার স্বামী মৃত এম.এ হান্নান এর বিনিয়োগকৃত ২৬,০০,০০০/- টাকা এবং হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: প্রতিষ্ঠানটি যাতে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মোছা: আনোয়ারা বেগম বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে তিনি আরো উল্লেখ করেন, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী মোছা: আনোয়ারা বেগম, স্বামী: মৃত এম এ হান্নান, আমি আমার স্বামীর অংশীদার বটে এবং উপরোক্ত টাকার মালিক এবং ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী অথচ টাকার অভাবে সন্তানাধি নিয়ে অতি কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছি। মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, পিতা: মৃত আজগর আলী, মাতা: আমেনা খাতুন, স্থায়ী ঠিকানা : পূর্ব কমন্বয় মিয়াপাড়া দশআনী, গাইবান্দা সদর, গাইবান্দা ও বর্তমান ঠিকানা: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: আলাউদ্দিন ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ রোড, শিববাড়ি মোড়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জয়দেবপুর, গাজীপুরসহ তার সহযোগী ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া, পরিচালক মোঃ আসিবুর রহমান (লিমন), পিতা: ইবারত আলী, অস্থায়ী ঠিকানা: হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এবং স্থায়ী ঠিকানা: ২/২ সোহেল নিলা, ইসলামপুর, থানা: টঙ্গী, জেলা: গাজীপুরগংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হয়েছি।
ভূক্তভোগী অভিযোগ করেন, আমার স্বামী এম এ হান্নান এর সাথে ১০০/-(একশত) টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে গত ০১/০৯/২০২০ ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোবারক হোসেন ভূঁইয়ার মাধ্যমে এবং সে সহ পরিচালক মোঃ আসিবুর রহমান (লিমন) উপস্থিতিতে ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদন করে ২০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং গত ০১/১০/২০২০ ইং তারিখেও ১০০ টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র সম্পাদন করে ৬ লক্ষ টাকা উপরোক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রহণ করেন হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সংক্রান্ত টাকা গ্রহিতা এবং স্বাক্ষীদের স্বাক্ষরিত পৃথক ব্যাংক চেক এবং চুক্তিপত্র দলিলাধিও রয়েছে আমার নিকট।
মোছা: আনোয়াারা বেগম বলেন, উল্লেখিত ব্যবসায়িক চুক্তিপত্রের শর্তাবলির মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, মৃত এম এ হান্নান এর বিনিযোগকৃত ২০ (বিশ) লক্ষ টাকার বিপরীতে প্রতি ইংরেজী মাসের ১-২৫ তারিখের মধ্যে ৩০(ত্রিশ) হাজার টাকা এবং এম এ হান্নান এর বিনিযোগকৃত ৬ লক্ষ টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট ৪০ হাজার টাকা মুনাফা হিসাবে হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন আমার স্বামী এম এ হান্নানকে প্রদান করবেন। অথচ আমার স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় কয়েক মাস মুনাফা হিসেবে ১৫/২০ হাজার টাকা করে আমার স্বামীকে প্রদান করা হতো।
অভিযোগে তিনি আরো জানান, আমার স্বামী এম এ হান্নান গত ২৩/০৮/২০২৩ ইং তারিখে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে আমাকে প্রতি মাসে উল্লেখিত মুনাফার টাকা প্রতিমাসে ১৫/২০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হলেও গত ৮/৯ মাসে আমাকে ব্যবসায়িক ২টি চুক্তিপত্রে উল্লেখিত মোট ২৬ লক্ষ টাকা বা চুক্তিপত্র মোতাবেক উপরোক্ত টাকার মুনাফা বাবদ ৪০,০০০/- টাকা দিচ্ছেন না উপরোক্ত ব্যক্তিদ্বয়। বরং উপরোক্ত ব্যক্তিদ্বয় পরস্পর যোগসাজশে টাকা দেই দিচ্ছি বলে তালবাহানা এবং বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে আসছে।
জানা যায়, আনোয়ারা বেগম গত ১ বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এছাড়াও টাকার অভাবে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগে প্রকাশ করেন।
মোছা: আনোয়ারা বেগম জানান, আমার স্বামী মৃত এম এ হান্নানের দেয়া ২৬ লক্ষ টাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচালক মোবারক হোসেন ভূঁইয়া, পরিচালক মোঃ আসিবুর রহমান (লিমন)গং কে টাকাগুলো ফেরত দিতে বললে গত কয়েক মাস ধরে আজ না কাল, আগামী সপ্তাহ, সামনের মাসের মধ্যেই ২৬ লক্ষ টাকা দিয়ে দেবো বলে কালক্ষেপণ করছে।
এক পর্যায়ে বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পারি, উপরোক্ত ব্যক্তিদ্বয় একে অপরের যোগসাজশে অত্যন্ত গোপনে হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: টি প্রায় ৩ কোটি টাকায় অন্যত্র বিক্রি করে দিয়ে আমার স্বামী মৃত এম এ হান্নান এর উক্ত মেডিকেলে বিনিয়োগকৃত ২৬ লক্ষ টাকা আমাকে না দিয়ে আত্মসাৎ করে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছে। বিষয়টি জানার পর আমি বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি জানতে পেরে উপরোক্ত ব্যক্তিদ্বয় আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমি যাতে কোন সালিশ বা কোন আইনের আশ্রয় না নেই। সালিশ বা কোন আইনের আশ্রয় নিলে উনারা আমাকেসহ আমার পরিবার তথা নিকট আত্মীয় স্বজনকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করবে এবং উনারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করছেন। আমি আমার প্রাপ্য টাকা ফেরত চাই। সেই সাথে জীবনের নিরাপত্তা চাই।
অভিযোগ রয়েছে, হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর ব্যাণারে আরো কয়েকটি স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের নামে কাগজপত্র বিহীন প্রতিষ্ঠান খোলে শেয়ার বিক্রির নামে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পরিচালক মোবারক হোসেন ভূইঁয়াগং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও উক্ত প্রতিষ্ঠানে ভালো মানের চিকিৎসক বা মানসম্মত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকার পরও ঝুকিপূর্ণ এমআরডিএনসি, গর্ভপাত সংক্রান্ত সিজার বা জটিল রোগীদের ভর্তি রেখে সঠিক চিকিৎসা সেবা প্রদান না করায় প্রায় প্রতিমাসেই কোন না েেকান দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ সংক্রান্ত একাধিক মামলাও রয়েছে এই হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি:সহ একই মালিকাধীন একই নামে এই ভবনে গড়ে তোলা সহযোগী অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নামে।
এ ব্যাপারে জানতে হলিল্যাব মেডিকেল সেন্টার লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের খোঁজে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে আব্দুল্লাহ আল মামুনের একান্ত সহযোগী এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোবারক হোসেন ভূইঁয়া প্রায় এক ঘন্টা পর মেডিকেলে এসে উপস্থিত হলে তিনি উপরোক্ত বিষয়ে অকপটে সব স্বীকার করে বলেন, আমার মাধ্যমে শুধু হান্নান মামা-ই টাকা দেন নাই অনেকেই এমন ভাবে টাকা দিয়েছেন, আমি নিজেও দিয়েছি, কিন্তু টাকা উঠাতে পারছি না। তবে আপনাদের টাকা পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ।
Leave a Reply