গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের মহড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি শরীফ ওমর টুটুল। হামলাকারীরা তার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দিলে তিনি গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) গাজীপুর সিটির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেটসংলগ্ন ইন্ডেসরি পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে সহকর্মীরা উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার মাথার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার ও সেলাই করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক শরীফ ওমর টুটুলের অভিযোগ, অস্ত্রের মহড়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। হামিদ মণ্ডলের লোকজনের কাছে যাওয়ার পর পেছন থেকে তার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়।
টুটুল বলেন, আমি হামিদ মণ্ডলের লোকজনের কাছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে আমার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। তখন সেখানে স্থানীয় সেলিমের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। সহকর্মীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

তিনি হামিদ মণ্ডল, তার ছেলে সোহেলসহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে হামিদ মণ্ডল দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো লোকজন জড়িত নন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এলাকায় আগে থেকেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, আহত সাংবাদিকের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বলে দিয়েছি আহত সাংবাদিকের চিকিৎসা গুরুত্বসহকারে করতে। আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব।”
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. দূর্জয় জানান, আঘাতে সাংবাদিকের মাথার কয়েকটি স্তর কেটে গেছে। তিনি বলেন, “ক্ষতস্থান সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। তবে সিটি স্ক্যান করার পর তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
এদিকে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানি জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার। তিনি বলেন, সাংবাদিকের ওপর মারাত্মক আঘাতের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
Leave a Reply