দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রডরিগেজ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পর্তুগালের কাসকাইসে এক ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিয়ের খবর প্রকাশ করেন এই তারকা জুটি।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা ছবিতে রোনালদো ও জর্জিনার হাতে দেখা যায় একে অপরের সঙ্গে মেলানো সোনার আংটি। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘C❤️G’। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁদের পাঁচ সন্তানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। পুরো আয়োজনটি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া। রোনালদোর ব্যবস্থাপনা দলের পক্ষ থেকেও বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন ভক্ত-সমর্থকেরা। কেউ তাঁদের ভালোবাসা ও সুখী জীবনের শুভকামনা জানিয়েছেন, আবার কেউ আবেগঘন মন্তব্য করেছেন।
প্রায় এক বছর আগে বাগদান করেছিলেন রোনালদো ও জর্জিনা। ২০২৫ সালের আগস্টে জর্জিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগদানের খবর প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই তাঁদের বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
শেষ পর্যন্ত পর্তুগালের উপকূলীয় শহর কাসকাইসকে বিয়ের স্থান হিসেবে বেছে নেন তাঁরা। এর আগে রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরার ফুনশাল শহরের একটি ক্যাথেড্রালের বাইরে ভক্তদের ভিড় দেখা গিয়েছিল। সেখানে তাঁদের বিয়ে হতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন অনেকে। তবে সেই ধারণা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি।
রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্কের শুরু ২০১৬ সালে। মাদ্রিদের একটি গুচি (Gucci) স্টোরে কাজ করার সময় তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। তখন জর্জিনা ওই প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং ২০১৭ সালে প্রকাশ্যে আসে তাঁদের প্রেমের খবর।
২০১৭ সালের নভেম্বরে তাঁদের প্রথম কন্যা আলানা মার্টিনা জন্ম নেয়। ২০২২ সালে তাঁদের পরিবারে আসে আরেক কন্যা বেলা এসমেরাল্ডা। একই সময়ে জন্ম নেওয়া তাঁদের যমজ ছেলে অ্যাঞ্জেল অবশ্য জন্মের সময়ই মারা যায়।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো। জর্জিনা তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হীরার আংটির ছবি প্রকাশ করে বাগদানের খবর জানান।
বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে এর আগে রোনালদো জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের পর ট্রফি হাতে নিয়ে বিয়ের আয়োজন করার ইচ্ছা ছিল তাঁদের। তবে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো আয়োজনের পরিবর্তে ঘনিষ্ঠজন ও সন্তানদের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত পরিসরেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকা।
Leave a Reply