রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা এবং দেশের হয়ে খেলার আর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন সাকিব। আওয়ামী লীগের প্রাক্তন এই সংসদ সদস্যের আর দেশে ফেরা হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে গত বুধবার নয়া দিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এর মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় ও রাজনীতিবিদ।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঠিক দুই বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাকিবকে নিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে আমিনুল বলেছেন, ‘আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপর আর মনে হয় না যে ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।’
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাকিবকে দেশে ফিরতে হবে জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘যে স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছে, তার তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর কোনো সুযোগ নেই। যে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।
নয়া দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার পরপরই সাকিবের মাগুরার ফাঁকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়। আমিনুলের বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা আগে এই বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মুঠোফোনে সাকিব জানান, তিনি সেদিন কেবল শান্তি ও বাংলাদেশের অগ্রগতির কথাই বলেছিলেন এবং এটা নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করছেন সাকিব। সেখান থেকে রয়টার্সকে তিনি আরও জানান, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তিনি দুই বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরতে প্রস্তুত। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাসহ সব ধরনের অভিযোগের বিচারের মুখোমুখি হতে তৈরি আছেন তিনি। এছাড়া, দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা এই ক্রিকেটার।
Leave a Reply