২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে আইনি চাপে পড়েছে ফিফা। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি আদালত ফিফার টিকিট বিক্রির কয়েকটি পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম টিকোম্বোর (Ticombo) আবেদনের পর আদালত এ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, ফিফাকে টিকিট পুনর্বিক্রয় প্রক্রিয়ায় বাণিজ্যিক বিক্রেতাদের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রাখার মতো কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। আদেশ অমান্য করলে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ইউরো জরিমানা বা ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
বার্লিনভিত্তিক টিকোম্বো জানিয়েছে, তাদের আইনি পদক্ষেপের লক্ষ্য বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া আসরের টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীর ভাষ্য, টিকিটিং শিল্পের সব পক্ষের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
এদিকে আদালতের আদেশের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ফিফা। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি আদালতের শুনানিতেও উপস্থিত ছিল না।
বিশ্বকাপজুড়ে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য, ডাইনামিক প্রাইসিং এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলও টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। একই সঙ্গে ভক্তদের করা একাধিক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টিকিটের মূল্য ও আসনের অবস্থান সম্পর্কে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
টিকোম্বোর অভিযোগ, ফিফার অফিসিয়াল পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতাদের পরিচয় গোপন রাখায় বাণিজ্যিক বিক্রেতারা সাধারণ সমর্থক সেজে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি করতে পেরেছেন। এছাড়া প্রাথমিক টিকিট বিক্রিতে ‘বেইট-অ্যান্ড-সুইচ’ কৌশল ব্যবহার করে শুরুতে কম দাম দেখিয়ে চেকআউটের সময় মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
যদিও এই আদালতের আদেশ কেবল জার্মানিতে কার্যকর এবং চলমান বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রিতে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম, তবে টিকোম্বো জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের আগেও ফিফার টিকিট বিক্রির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তারা আইনি ও নীতিগত চাপ অব্যাহত রাখবে।
Leave a Reply