শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর র‍্যাবের সাবেক এএসপি মাসুদুর বরখাস্ত ৪ সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় শিক্ষার গুণগত মান পুনরুদ্ধারে ব্যাপক সংস্কার আনছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়- ভাইস-চ্যান্সেলর উত্তরায় বাস চাপায় ২ সাংবাদিক নিহত হালুয়াঘাট সনাতন যুব সংঘের আয়োজনে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত গাজীপুরে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মানিক্য মাধবের রথযাত্রা শুরু, ২০ দিনব্যাপী চলবে রথ মেলা

ট্রাফিক স্টপে অভিবাসী তল্লাশি ও আটকের নির্দেশ ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি (ট্রাফিক স্টপ) অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সাম্প্রতিক সেই নির্দেশনা কার্যত বাতিল করলেন, যেখানে কর্মকর্তাদের চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অভিবাসীদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “আমাদের শক্ত, কঠোর ও বিচক্ষণ হতে হবে। আইসিইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর আইন প্রয়োগের পদ্ধতিগুলোর একটি হলো ট্রাফিক স্টপ। এটি কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। তা হলে অপরাধীরাই লাভবান হবে।”
আইসিই কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিচক্ষণ, ন্যায়সঙ্গত ও স্মার্টভাবে কাজ করুন এবং আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে যান।”
তবে ট্রাম্পের এ ঘোষণার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সচিব মার্কওয়েন মুলিন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া। যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে, গ্রেপ্তার করে বহিষ্কার করা হবে।
হোয়াইট হাউস ও ডিএইচএস এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহেই আইসিই নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের চলন্ত যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ না করার নির্দেশ দিয়েছিল।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক দুটি প্রাণঘাতী অভিযানের প্রভাব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেইন অঙ্গরাজ্যের বিডেফোর্ড শহরে বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতে গিয়ে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। ডিএইচএসের দাবি, একটি গাড়ি থামানোর সময় জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে মনে করেই ওই কর্মকর্তা গুলি চালান।
এর এক সপ্তাহ আগে টেক্সাসের হিউস্টনেও অভিবাসন অভিযানে আরেক ব্যক্তি নিহত হন। যদিও স্থানীয় আইনপ্রণেতাদের দাবি, নিহত দুজনের কেউই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলেন না।
অভিবাসনবিষয়ক অভিযানে ট্রাফিক স্টপ দীর্ঘদিন ধরে আইসিইর অন্যতম ব্যবহৃত কৌশল। তবে সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর পর এই পদ্ধতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে ডিএইচএসের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়েও নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মিনেসোটায় পৃথক ঘটনায় দুই মার্কিন নাগরিক—অ্যালেক্স প্রেটি ও রেনি গুড—ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ডিএইচএসকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের গণহারে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সংস্থাটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories