ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সিউড়িতে দিশা (ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি) বৈঠক শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি গাড়ির ভেতরে থাকায় কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার জেলা প্রশাসন ভবনে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী দিশা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। বৈঠক শুরুর আগে প্রশাসন ভবনের বাইরে একদল মানুষের জমায়েত হয়। তাদের কয়েকজনের হাতে কাঁচা ডিম ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করে এবং ভিড় সরিয়ে দেয়।
বৈঠক শেষে শতাব্দী রায়ের গাড়ি প্রশাসন ভবন ত্যাগ করার পর জেলা তৃণমূল কার্যালয়ের কাছে একটি স্কুটারে থাকা কয়েকজন যুবক গাড়িটির পিছু নিয়ে ডিম নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ডিম গাড়িতে আঘাত করলেও সাংসদ নিরাপদ ছিলেন।
এদিকে দিশা বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির কোনো বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন না। জেলা প্রশাসনের দাবি, সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় তারা বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। তবে প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন।
বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শতাব্দী রায় বলেন, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল রাজনৈতিক কাজে দিল্লিতে রয়েছেন। অন্য বিধায়কেরা কেন আসেননি, সে বিষয়ে তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।
বৈঠকে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, নিকাশিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষভাবে ‘জিরামজি’ প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৩টিতে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার কারণে কিছু কাজ বিলম্বিত হওয়ায় আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বৈঠকের উন্নয়নমূলক আলোচনা ছাপিয়ে সাংসদ শতাব্দী রায়ের গাড়িতে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাই বীরভূমের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Leave a Reply