শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামী নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আইনমন্ত্রী দ্রুত সময়ে পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান সোনার দাম আরও কমলো, কমেছে রুপাও বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছুটা শ্লথ হলেও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রয়েছে : এডিবি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও পরীক্ষা নিয়ে নির্দেশনা জারি চলচ্চিত্র অনুদান কমিটিতে আওলাদ হোসেন সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ বেঁচে থাকার জন্য সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রীর সাথে মিশরের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতে যৌথ মিডিয়া ফোরাম গঠনের প্রস্তাব ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠাবে সরকার: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী পলাতক তিন পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

অবশেষে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলল ফিফা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারিং ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)- এর সিদ্ধান্ত ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, মাঠের রেফারি কোনো ফাউল দেখতে না পেলেও ভিডিও রিপ্লেতে সেটি স্পষ্ট হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতেই পারে। তার ভাষায়, ‘ফাউল মানে ফাউল’ এ ক্ষেত্রে দূরত্ব বা সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব শেষ হওয়ার পর ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে রেফারিং নিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ইতালিয়ান কিংবদন্তি রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা। বর্তমানে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৬৬ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা বলেন, টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা আগের আসরের তুলনায় অনেক বেশি হলেও সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।
কোলিনার মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে অনেক বেশি ম্যাচ পরিচালনা করতে হওয়ায় কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রতিটি ম্যাচের পর রেফারিরা নিজেদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেন এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামেন। তিনি বলেন, ফুটবলে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা সব সময়ই থাকবে, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগ শুধু কর্মকর্তাদেরই নয়, তাদের পরিবারের জন্যও হুমকির কারণ হতে পারে।
ফিফার রেফারিং বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে বলেও দাবি করে কোলিনা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবেই ম্যাচ পরিচালিত হয় না। এমনকি ফিফার সভাপতিও রেফারিদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না। মাঠের কর্মকর্তারা নিজেদের বিবেচনা ও ফুটবলের আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন এবং খেলোয়াড় কিংবা কোচদের মতো তারাও প্রতিটি ম্যাচে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেন।
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কোলিনা জানান, প্রতিটি গোল হওয়ার পর ভিএআর পুরো আক্রমণভাগের বিল্ডআপ বা ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ (এপিপি) পরীক্ষা করে। গোল হওয়ার আগে কোনো ফাউল হয়ে থাকলে এবং সেটি গোল হওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়। এই ক্ষেত্রে ফাউলটি গোলপোস্ট থেকে কত দূরে হয়েছে বা গোল হওয়ার কতক্ষণ আগে ঘটেছে, সেটি বিবেচ্য নয়।
তিনি উদাহরণ হিসেবে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। কোলিনার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মিশরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে আঘাত করেছিলেন, যা স্পষ্ট ফাউল ছিল। মাঠের রেফারি সেটি দেখতে না পেলেও ভিডিও রিপ্লেতে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করাকে সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে ফিফা।
একই সঙ্গে ম্যাচের শেষ দিকে আরেকটি বিতর্কিত মুহূর্তের কথাও তুলে ধরেন কোলিনা। তার ব্যাখ্যায়, কোনো ডিফেন্ডার আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষে জড়ালে সেটিকে ফাউল হিসেবে ধরা হয় না। আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে শেষ দিকে এমন একটি ঘটনায় রেফারি এবং ভিএআর সেটিকে ফুটবলের স্বাভাবিক শারীরিক লড়াই হিসেবেই বিবেচনা করেছেন।
তবে সব সিদ্ধান্ত নিয়েই যে সবাই একমত হবেন, এমনটি প্রত্যাশা করেন না কোলিনা। তার মতে, ফুটবলের কিছু সিদ্ধান্তে সব সময়ই ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা বা মতপার্থক্যের সুযোগ থাকে। এরপরও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই মানদণ্ডে নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ফিফা সন্তুষ্ট।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories