শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা রুয়েটে মুখোমুখি ছাত্রদল–শিক্ষার্থী, ক্লাস বর্জন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা রুয়েটে মুখোমুখি ছাত্রদল–শিক্ষার্থী, ক্লাস বর্জন

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সোমবার (২৭ এপ্রিল) ক্লাস বর্জন করেছেন ২০ সিরিজের শিক্ষার্থীরা।
এদিন দুপুরে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনের সড়কে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন।
তাদের দাবিগুলো হলো—ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালুর লক্ষ্যে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট রুয়েটে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রুয়েটে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না, তা নির্ধারণে নির্বাচনকালীন কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে গণভোট আয়োজনের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও দু-একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি।
তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলে আইন অনুযায়ী কেউ এটা করতে পারে না। তারপরও এটি হচ্ছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। কী করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। আমি সচিবালয়ে কাজে এসেছি। রাতে ছাত্র উপদেষ্টাকে পাঠিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করা হয়েছে। আজ তারা ক্লাস বর্জন করেছে। দুপুরে শিক্ষার্থীরা কিছু দাবি জানিয়েছে। সেগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে জিয়া হলের সামনে ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে রুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে এরপরও বিভিন্ন সময় গোপন ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ এপ্রিল। চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ‘শিবির–ছাত্রদল’র সংঘর্ষের ঘটনায় রুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ বিরুদ্ধে দেয়াললিখন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ গুপ্ত রাজনীতির পাশাপাশি প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধেও দেয়াল লিখন করেন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি ব্যানার টাঙান।
অভিযোগ ওঠে, ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু শিক্ষার্থী ওই ব্যানার খুলে আগুনে পুড়িয়ে দেন। একই সঙ্গে ‘রুয়েটে জাতীয়তাবাদী স্পন্দন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে বিষয়টি প্রচার করা হলে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এর প্রতিবাদে রোববার দিবাগত রাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা এই রুয়েটে হবে না’-সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস।
অন্যদিকে জিয়া হলের সামনে অবস্থান নেয়া প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রদলপন্থি শিক্ষার্থী দলটির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে সোমবার ২০ সিরিজের শিক্ষার্থীরা (এসএসসি উত্তীর্ণ ২০২০ সালে) ক্লাস ও ল্যাব বর্জন করেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories