বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি বুঝিয়ে দিন, ইসলামের কঠোর নির্দেশ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর অধ্যাপক আসাদুজ্জামান খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ মিশিগানে বামের বাংলাদেশ–আমেরিকান ফেস্টিভ্যালে শেকড়ের টানে প্রবাসীদের মিলনমেলা বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১০ বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১৯টি জাপানে ভূমিকম্পে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু এবার ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান

দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮ বছরে ১,৫০০ এর বেশি যৌথ আত্মহত্যা, গবেষণা প্রতিবেদনে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার

দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি রিসার্চ সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রেকর্ড করা প্রায় এক লাখ ৮ হাজার আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ১,৫০০ জন যৌথ আত্মহত্যায় প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে ৪০০-রও বেশি মানুষ হত্যা করার পর আত্মহত্যা করেছেন।
প্রতিবেদন অনুসারে, যৌথ আত্মহত্যার ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একসঙ্গে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে-পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা (৩৪.৪%), আর্থিক সংকট (২০.৭%), মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও পারস্পরিক দ্বন্দ্ব।
গত মে মাসে, একজন ব্যক্তি তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়ার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তিনি পুলিশকে জানান যে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ওন ($১৪৩,৯০০) ঋণের কারণে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। গত জুলাই মাসে, গিওংগি প্রদেশের হোয়াসিওং-এ ৪০ বছর বয়সী এক দম্পতি এবং তাদের দুই কিশোর সন্তানকে একটি পার্ক করা গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যেখানে আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে একটি চিরকুট পড়ে ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রে তীব্র চাপ, পরিবারভিত্তিক টানাপোড়েন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা একসঙ্গে মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। একক আত্মহত্যার পাশাপাশি যৌথ আত্মহত্যার প্রবণতা প্রমাণ করছে, হতাশার এই ভার শুধু ব্যক্তিকেই নয়, সম্পর্ককেও গ্রাস করছে।
এ বিষয়ে মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে পরামর্শ ও সহায়তা সেবার প্রসার ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরকার নানাবিধ সচেতনতা মূলক কর্মসূচি পালন করছে। যদি পরিচিত কারো আত্মহত্যার সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে কোরিয়ার সুইসাইড ক্রাইসিস হটলাইনে ১০৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আত্মহত্যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি গভীর সামাজিক সমস্যা। যৌথ আত্মহত্যার মতো প্রবণতা কমাতে হলে কেবল আইন নয়, প্রয়োজন পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে মানসিক সহায়তা নেটওয়ার্ক তৈরি করা। দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান তাই নীতিনির্ধারক, সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের সামনে এক নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories