বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি বুঝিয়ে দিন, ইসলামের কঠোর নির্দেশ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর অধ্যাপক আসাদুজ্জামান খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ মিশিগানে বামের বাংলাদেশ–আমেরিকান ফেস্টিভ্যালে শেকড়ের টানে প্রবাসীদের মিলনমেলা বাংলাদেশের সুন্দরবনে ১০ বছরে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১৯টি জাপানে ভূমিকম্পে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু এবার ফ্রান্সের নতুন কোচ জিদান

হাসপাতালে বেওয়ারিশ দেহ,অবহেলা নিয়েই মর্মান্তিক মৃত্যু জহর রায়ের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার

বাংলা সিনে দুনিয়ার কিংবদন্তি অভিনেতা ছিলেন জহর রায়। স্বর্ণযুগের শিল্পীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। একসময় থিয়েটার থেকে টলিউড দাপিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। বড় মাপের অভিনেতা ছিলেন জহর রায়। কিন্তু একটা সময়ের পর তার জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। ওই সময় তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল টলিউডও। তারপরে তার যে পরিণতি হয়েছিল তা কল্পনাও করতে পারবেন না কেউ।
জহর রায় ১৯১৯ সালে বরিশালের (বর্তমান বাংলাদেশের) মহিলারায় একটি বাঙালি বৈদ্য পরিবার জন্মগ্রহণ করেছেন। তার পিতার সতু রায় ছিলেন নির্বাক যুগের একজন প্রখ্যাত অভিনেতা। তাই জহর রায়ের প্রতিভা ছিল জন্মগত। একটু ভাল রোজগারের আশায় জহর রায়ের বাবা স্ত্রী এবং ছেলে মেয়েকে নিয়ে কলকাতায় চলে এসেছিলেন। এরপর কলকাতাতেই বেড়ে ওঠেন জহর রায় এবং তার ভাই-বোনেরা।
সংসারে প্রবল আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি জহর। তবে তিনি ছোট থেকেই বড় অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তাই অভিনয়টাকেই ভাল করে শিখতে শুরু করেন। তার কেরিয়ার শুরু হয়েছিল অ্যামিচার থিয়েটার থেকে। তিনি ছিলেন চার্লি চ্যাপলিনের অনেক বড় ভক্ত। তবে আর্থিক অনটনের কারণে আলাদা পেশাও নিতে হয়েছিল তাকে।
সংসার চালাতে একসময় দর্জির দোকান খুলে বসেছিলেন জহর রায়। তবে অভিনয় করার তীব্র বাসনা ছিল তার মনে। তাই সব কিছু ছেড়ে টলিউডে গিয়ে কাজ খুঁজতে শুরু করে দেন তিনি। প্রথম প্রথম ছোটখাটো কিছু চরিত্ররা পেতেন। তবে বিমল রায়ের ‘অঞ্জনগড়’ ছবিটি টলিউডের মাটিতে তার শক্ত জায়গা গড়ে দেয়। এরপর ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার জুটিও দর্শকদের মনে ধরে।
ভানুর সঙ্গে ‘ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ করে তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। সেই সঙ্গে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘পরশপাথর’, ‘যুক্তি তক্কো গপ্পো’ ইত্যাদি বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করে তিনি শিল্পীর মর্যাদা পান। তবে তিনি কখনও তার কাজের মর্যাদা পেলেন না। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনেও পেলেন না সুখ। কেরিয়ারে বেশ ভালই এগোচ্ছিলেন, তবে মেয়ের মৃত্যুতে সবকিছু কেমন যেন থমকে গেল।
প্রথম কন্যা সন্তান জন্মের কিছুদিন পরেই মৃত্যু হয়। এই শোক তিনি মেনে নিতে পারেননি। দুঃখ ভুলে থাকতে মদ্যপান করতে শুরু করেন। পরে একে একে তার চার সন্তানের জন্ম হয়। তবে প্রথম সন্তানকে হারানোর শোক তিনি সামাল দিতে পারেননি। এরপর তার শরীর ভেঙে যায়। তখন আর তেমন কাজও পেতেন না তিনি। চরম অর্থাভাব ঘিরে ধরে তাকে। এমনকি তার বন্ধুরাও তাকে এড়িয়ে যেতেন এই ভয়ে যে তিনি হয়তো টাকা ধার চেয়ে বসবেন!
এভাবে বেশি দিন জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে পারেননি তিনি। ১৯৭৭ সালে মেডিকেল কলেজে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন কেবল ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া আর কেউ তার খোঁজ নিতে আসেননি। বন্ধু সম্পর্কে বলতে গিয়ে পরে একবার ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন ছুঁড়েছিলেন, ‘‘এই দেশের কাছে কি সত্যিই জহর রায়ের কিছু পাওনা ছিল না? তিনি অন্য দেশে জন্মালে তো স্যার উপাধি পেতেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories