রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

টাঙ্গাইলে আলোচিত ধর্ষণ মামলার বাদী এশা মির্জার মরদেহ উদ্ধার, মামলা দায়ের

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৩
  • ১৩৭ বার

টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার বাদী মির্জা আফরোজ এশার (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে বোয়ালী নিজ বাসার তৃতীয় তলা থেকে এশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মির্জা আফরোজ এশা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের করের বেতকা বোয়ালী গ্রামের মৃত লতিফ মির্জার মেয়ে। নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুউদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার বিকেলে নিজ বাসায় রুমের ভিতর এশার মির্জার ছেলের কান্না শুনতে পায় তনিমা আক্তার নামের এক নারী। পরে আশপাশের লোকজনকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

তনিমা আক্তার বলেন, আমার রুম থেকে বের হয়ে এশার বাচ্চার কান্না শুনতে পেয়ে দরজায় ধাক্কা দেই কিন্তু দরজা বন্ধ পাই। পরে পুলিশকে কল দিলে রুম খুলে দেখে এশা ঝুলে আছে।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া পিপিএম জানান, আলোচিত ধর্ষণ মামলার বাদী মির্জা আফরোজ এশা তার তিনতলা বাসার নিজের রুমে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও এশা মির্জা
টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া বড় মনির ও এশা মির্জা
এদিকে, এশা মির্জার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় এশা মির্জার ভাই ও সৌরভ নামের একজনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে এশা মির্জার বোন লুনা মির্জা বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া। তিনি জানান, শনিবার রাতে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন এশার বোন। লাশ রাতেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, আজ রোববার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই নারী অভিযোগ করেন, গত (১৭ ডিসেম্বর) গোলাম কিবরিয়া তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে গত ২৯ মার্চ গোলাম কিবরিয়ার শ্বশুর বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং বড় মনি তাকে আবারো ধর্ষণ করে। মামলায় বড় মনির স্ত্রী নিগার আফতাবকেও আসামি করা হয়।
পরে ওই কিশোরী আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ওই সময় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। সেই ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বার প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্ত তখন মামলার এজাহারে প্রায় সাড়ে ৩ মাস উল্লেখ করা হয়েছিলো।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories