মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর কুলঘেষে মুক্তারপুর বিনোদপুরের রাস্তাটি বর্তমানে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে।এর ফলে এখন এ রাস্তাটিতে বেহাল দশা বিরাজ করছে।রাস্তার বেহাল দশার কারণে এ সড়কে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় লোকজনেরা।যে স্থানটিতে বর্তমানে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে তার কিছু দূরেই রয়েছে মুক্তারপুর সেতুর অবস্থান।নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করলে সেতুটি ভবিষতে ভাঙ্গনের মুখে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছেন।তাই ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিত কর্তৃপক্ষের।এখানে নদী ভাঙ্গনে রাস্তার বেহলা দশার কারণে এ পথের লোকজনরা বাধ্য হয়ে ঘুর পথে মুক্তারপুরের বিসিক ও দয়ালবাজার দিয়ে বর্তমানে চলাচল করছে।এদিকে রাস্তাটির বেহাল দশা বছরের পর বছর ধরে বিরাজ করলেও সঠিক সময়ে এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় এবারের বর্ষায় পানি বৃদ্ধিতে এটি এখন ব্যবহারের অনুপোযোগি হয়ে উঠেছে।তার ফলে এ রাস্তায় এখন সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।তাতে এ পথের সাথে যাদের বাড়িঘর কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ রাস্তার কারণে এখন তাদের ভোগান্তি বেড়ে গেছে কয়েক গুন।এ রাস্তার পাশে মুক্তারপুর বাজার,মালিপাথর গ্রাম,ফিরিঙ্গি বাজার ও বিনোদপুরসহ একাধিক গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের রাস্তা হচ্ছে এটি।কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে তারা এখন যানবাহনের পরিবর্তে এ পথ দিয়ে পায়ে হেটে চলাচল করছে।এ পথের পাশে হাজার হাজার লোকের বসবাস।তারা এখন মহাবিপাকে রয়েছেন এ রাস্তার কারণে।কয়েক মাইলের এ রাস্তা দিয়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও পায়ে হেটে স্কুলে যাচ্ছে নিত্যদিন।তবে রাস্তার বেহলা দশার কারণে এ পথে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে।এ পথের পাশে মুক্তারপুর এলাকায় রয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় বড় কয়েকটি হিমাগার।রাস্তার এ দশার কারণে এ হিমাগার থেকে এখন আলু ট্রাকে উঠানো নামানো যাচ্ছে না।ঘুর পথে আলু আনা নেয়ার কারণে আলুর দাম বাজারে এখন বেড়ে যাচ্ছে ব্যয় ভার।আলুর বাজার বর্তমানে দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে জনগণকে।এ ছাড়া এ পথের মালিপাথর এলাকায় রয়েছে একাধিক বালু ও ইটের ব্যবসা। ফিরিঙ্গিবাজার ও বিনোদপুর এলাকায় রয়েছে জেলার সবচেয়ে একমাত্র চাউলের ব্যবসার শত শত আড়তের দোকানপাট।রয়েছে কয়েকটি অটো রাইস মিল।অল্প সময়ের মধ্যে এ পথ দিয়ে কম ভাড়াতে অনেকেই এখান দিয়ে চলাচল করে থাকেন।কিন্তু রাস্তার বেহলা দশার কারণে বাণিজিকভাবে অর্থনীতিতে ব্যবসায়িরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ পথে।এ বিষয়ে ইতোপূর্বে লেখালেখি হলেও এর সাথে জড়িত দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।যার কারণে এ রাস্তাটি এখন নদী ভাঙ্গন মারাত্নক রুপ ধারণ করেছে।এখন নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে মুক্তারপুর এলাকায়।এর সাথে পাল্লা দিয়ে এর উত্তর দিকেও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
চলতি মৌসুমে বর্ষার আগেই মুক্তারপুর এলাকার বেড়ি বাঁধ থেকে রাস্তার পাশের ব্লক গুলো সরিয়ে নেয়া হয়।তখন স্থানীয়ভাবে লোকজন রাস্তার পাশে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেড়া দেয়।কিন্তু সেখানে বালির বস্তা না ফেলার কারণে এ মৌসুমে লাগাতার বৃষ্টি ও নদীতে বর্ষার পানি বৃদ্ধি পেলে এ রাস্তাটি আবারো ভেঙ্গে গেলে এ পথ দিয়ে সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।বর্তমানে রাস্তার প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে এখানে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় লোকজনরা।
এদিকে এ সড়কের ব্লক সরিয়ে নেয়ার পরে নদীর তীর ধরে পাকা দেয়াল কিংবা গাইড দেয়াল উঠাতে দেখা যায় কিছু দিন ধরে।কিন্তু তাতে ধীর গতি লক্ষ্য করা গেছে।ইতোমধ্যে নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে সেটিও পানির নিচে তলিয়ে যায়।এর ফলে এ কাজটি প্রকৃত অর্থে আর আলোর মুখ দেখতে পায়নি।কেন এটি সঠিক সময়ে হলো না তা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত হওয়া উচিত বলে অনেকেই মনে করছেন। কাদের খামখেয়ালির কারণে একটি নির্মিত রাস্তা এখন ভেঙ্গে গেল।এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে নানা রকমের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?
‘নব্বইয়ের’ দশকের আগে মুক্তারপুর বিনোদপুরে যাওয়ার জন্য কোন সড়ক পথ ছিল না।শীত মৌসুমে নদীর তীঁর ধরে পায়ে হেটে এ পথ দিয়ে লোকজন চলাচল করতো।আর বর্ষা মৌসুমে এখানে নৌকায় চলাচল করা হতো। এরপর ধলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে এখানে বাঁধ দেয়া হলে সড়ক পথ তৈরি করা হয়।এদিকে বেড়িবাঁধের ব্লক ইতোমধ্যে এ সড়ক পথে অনেকটাই নড়বড়ে অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক স্থানে এগুলো আবার খসে খসে মুল স্থান থেকে সরে গেছে।তাতে এ সড়কের বেশির ভাগ জায়গাতেই এখন ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত চলমান বর্ষায় মালিপাথর গ্রামে বড় ধরণের নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়।সেই সময়ে এটি দেখার জন্য মন্ত্রীও এখানে ছুটে আসেন।তখন মন্ত্রী আশ্বাস দেন শুস্ক মৌসুমে এ সড়ক পথে কাজ করা হবে।কিন্তু তা এখনো হচ্ছে না।তবে তাৎক্ষণিক ভাঙ্গনরোধে মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলার জন্য এখানে কিছু অর্থ প্রদান করেন যা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল কম।তা দিয়ে কোন রকমে সেই যাত্রায় পাড়ি দেয়া গেছে সাময়িক অবস্থা।চলমান বর্ষায় পানির প্রবাহ বেড়ে গেলে আবারো এখানে নদী ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে বলে অনেকেই আশংকা করছে।ধলেশ্বরী এ নদী দিয়ে বরিশাল ও চাঁদপুরের বড় বড় লঞ্চ চলাচল করে।সেই লঞ্চের ঢেউয়ে এখানকার নদীর পাড় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে থাকে বলে জানা গেছে।নদীর পানি প্রবাহ ও ঢেউয়ের কারণে এ রাস্তার আজ বেহাল দশা বিরাজ করছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কটি মুন্সীগঞ্জ সদর এলজিইডির আওতায় রয়েছে।এখানে আমাদের কোন কাজের অংশ নেই।তাই আমাদের এখানে কিছু করার নেই।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃশফিকুল ইসলাম আহসান বলেন,মুক্তারপুর বাজার থেকে বিনোদপুর পর্যন্ত ১২ শত মিটার এই সড়ক পথের সংস্কারের কাজের জন্য একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে।এই প্রকল্পের কাজটি দুটিভাগে ভাগ করা হয়েছে।মুক্তারপুর বাজার থেকে প্রথম ভাগে ৩শ’ থেকে ৩শ’২০ মিটার পর্যন্ত আরসি রাস্তা তৈরি করা হবে।
Leave a Reply