২০২১ সালে বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির।

অন্যদিকে সততা, সাহসিকতা এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (দক্ষিন) বিভাগ জিএমপি’র মো.হাসিবুল আলম আইজিপি এক্সপ্লোরারি গুড সার্ভিস (আইজিপি ব্যাজ) পদকে ভূষিত হয়েছেন।

সততা, সাহসিকতা এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ রাস্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) খেতাব পেয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অপরাধ (উত্তর) বিভাগ জিএমপি’র মো. রেজোয়ান আহমেদ রাজু।

এছাড়াও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা’ পেয়েছেন শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জালাল উদ্দিন আহম্মদ।
অপরদিকে ২০২০সালের ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) সেবা’ পেয়েছেন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) গাজীপুর মেট্রো শাখার পরিদর্শক রেজাউল করিম এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) পেয়েছেন জিএমপি সদর থনার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম।
একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর (২০২১ সালে)পুলিশ সপ্তাহ হয়নি। এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় ২৩ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হবে এ বছরের পুলিশ সপ্তাহ। রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অপরদিকে, অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন সারাদেশের ২৩০ জন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে ২০২১ সালের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন ১১৫ জন, আর ২০২০ সালের জন্য পাচ্ছেন ১১৫ জন।
অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য ২০২১ সালে ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও ২৫ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং ২০২০ সালের জন্য ১৫ জনকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও ২৫ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণেল মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২০২১ সালে ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ ও ৫০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা) এবং ২০২০ সালের জন্য ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ ও ৫০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা) প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য: ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগদান করেছেন খন্দকার লুৎফুল কবির। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা-১-এর উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার হিসেবে খন্দকার লুৎফুল কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
খন্দকার লুৎফুল কবির ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখ্য : খন্দকার লুৎফুল কবির বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস ১৫ তম ব্যাচ) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৯৯৫ সালে পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে হবিগঞ্জ সদর এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ডিএসবিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সহকারী পরিচালক হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং এএসপি হিসেবে লক্ষীপুর, নারায়নগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় সার্কেলের দায়িত্ব পালন করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতির পর তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কুমিল্লায় দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে ঝালকাঠি, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, নোয়াখালী জেলা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ও গুলশান বিভাগে উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতির পর তিনি র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) দায়িত্ব পালন করেন। ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতির পর অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে (এটিইউ) কর্মরত ছিলেন।
এছাড়াও খন্দকার লুৎফুল কবির জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কসোভো ও সাউথ সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) সেবা পদক এবং আইজিপি এক্সপ্লোরারি গুড সার্ভিস (আইজিপি ব্যাজ) পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।
খন্দকার লুৎফুল কবির ১৯৬৯ সালের ১লা জানুয়ারী নরসিংদী পৌরসভার কান্দাপাড়া গ্রামের এক মুসলিম সমভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। খন্দকার লুৎফুল কবিরের পিতা মৃত খন্দকার হুমায়ুন কবির এবং মাতার নাম লুৎফা বেগম।
Leave a Reply