শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে সড়ক মহাসড়ক দখল করে চলছে চাঁদাবাজী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের

স্টাফ রিপোর্টার:
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২২
  • ২১৫ বার

ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও টঙ্গী কালীগঞ্জ সড়ক দখল করে একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্র প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে। ফলে এ দুটি সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিনিয়িত যানজটের কবলে পড়ে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যানবাহনসহ সাধারণ যাত্রী জন-সাধারণকে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে বিআরটিএর উন্নয়ন কাজ অন্যদিকে কালীগঞ্জ সড়কের দুপাশে ষ্টেশন রোড এলাকায় জলঅবদ্ধতা নিরশনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক চলছে আরসিসি ড্র্রেনের উন্নয়ণ কাজ তার উপর ময়লা আবর্জনাযুক্ত জলাবদ্ধায় নাকাল যখন সাধারণ মানুষ তখন টঙ্গী পূর্ব থানাধীন কালীগঞ্জ সড়ক এবং ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক ষ্টেশন রোড মোড়সহ গুরত্বপূর্ণ সরকারী স্থাপনা টঙ্গী পূর্ব থানা এবং শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ।টার জেনারেল হাসপাতাল গেইট এবং তিতাস গ্যাস ষ্টেশনের মূল ফটক এমনকি সড়কের দুপাশে ফুটপাত দখল করে অটো, ইজিবাইক, সিএনজি প্রাইভেটকার, লেগুনা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পন্য-সামগ্রীর ফল, মাছ, তরী-তরকারী ও শীতের কাপড়সহ বিভিন্ন কাপড়ের দোকানপাট বসিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কতিপয় নামধারী নেতারা প্রশাসনের সহযোগীতায় চালিয়ে যাচ্ছে নিয়িমত চাঁদাবাজি। প্রশাসনের সহযোগীতায় খোদ টঙ্গী পূর্ব থানা গেইটে বসানো হয়েছে অটো ও ইজি বাইক স্টেশন। এছাড়াও ৫০/১০০ গজের মধ্যে টঙ্গী কালীগঞ্জ সড়কের দু-পাশে বিভিন্ন আন্ত:জেলা বাস কাউন্টার এবং প্রাইভেটকার স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজট চাঁদা আদায়সহ সৃষ্টি করা হচ্ছে যানজট। অন্যদিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ষ্টেশন রোড মোড়স্থ সরকারবাড়ির সামনে সিএনজি ও মোটরবাইক স্ট্যান্ড বসিয়ে ট্রাফিক পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় তোলা হচ্ছে চাঁদা।

এসব টাকার একাংশ প্রশাসন ও বাকী সিংহভাগ স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতারা নিয়ে থাকেন বলে জানায় চাঁদা উত্তোলনকারী লাইনম্যানরা। লাইনম্যানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা জিপি হিসেবে প্রতিদিন প্রতিটি স্পট থেকে ৮/১০ হাজার টাকা উঠিয়ে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের হাতে তুলে দেই। আর সারাদিন পরিশ্রম করে টাকা উঠনোর পর ৩/৪ টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে পাই। ফলে প্রতিদিন এ সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের যানজট, হেঁটে চলা জন-মানুষের দূর্ভোগ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীক মার্কেট বা সরকারী ও বে-সরকারী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন রোগী নিয়ে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের দূর্ভোগের অন্ত নেই। এসব দখল বানিজ্য বা চাঁদাবাজীর নেপথ্য শেল্টার দাতারা কি আইনের উর্দ্ধে ? এ প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাসহ পথযাত্রীদের। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক স্থানীয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ, গাজীপুর মেট্রো পলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনাসহ দখল এবং চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী করেছেন স্থানীয় ভূক্তেভাগী সাধারণ মানুষ।
এব্যাপারে টঙ্গী ট্রাফিক জোনের এসি জানান, আমি টঙ্গী আসার এসব স্ট্যান্ডগুলো এশাধিকবার উঠিয়ে দেই। কিন্তু দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্যি এক দুদিন বন্ধ থাকার পর আবার একজন দুজন করে বসে যায়। টাকা উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে হয়তবা আমাদের ছোট ছোট অফিসারদের দু-এক জন কিছু পেতে পারে, যা আমার জানা নেই। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া এসব স্ট্যান্ড বন্ধ করে দিলে স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা এমনকি যাত্রীরা আমাদের উপর নাকোশ হন। এটা একটা বড় সমস্যা। তারপরও বিষয়টা তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories