টঙ্গীতে জায়গা-জমি বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে মুক্তা মনি (২৭) নামে গৃহবধু। এঘটনায় ওই গৃহবধুর ভাই শাহজাহান বাদী হয়ে ১০/১২ জনকে অভিযুক্ত করে টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করার পর বিবাদী পক্ষ মামলা উঠিয়ে নিতে বাদী ও বাদীর বোনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত মুক্তা মনি জানায়, ১৪/১৫ বছর আগে টঙ্গীর টিএন্ডটি এলাকার ইয়াকুব আলী তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আমাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর আমার সংসারে দুটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। আমার স্বামী আমার দুই নাবালক ছেলের নামে বর্তমান বাড়িটি লিখে দেন। সেখানেই আমি ও আমার ছেলেরা বসবাস করে আসছি। বর্তমানে আমার স্বামী অসুস্থ থাকলেও সে রহস্যজনক কারণে তার আত্বীয় স্বজনদের সাথে নিয়ে আমাকে ভিটে ছাড়া করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে আসছে। সে তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে মেয়েসহ তার ভাই বোন ও শ^শুড় বাড়ির আত্বীয়দের নিয়ে উক্ত বাড়ি থেকে আমাকে বের করে দেয়ার চক্রান্ত করে এবং আমাকে হত্যার উদ্দ্যেশে ইয়াকুব আলীর নির্দেশে আত্বীয় স্বজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে গত ৩ ডিসেম্বর আমাকে বেদড়ক মারধর করে আমার এক পা ভেঙ্গে দেয় এবং মাথায় কুপিয়ে গুরত আহত করে। এঘটনায় আমার ভাই বাদী হয়ে ইয়াকুব আলীসহ ১০ /১২ জনের নামে টঙ্গী পূর্ব থানার মামলা নং ১২(১২)২০২১ ইং রজু করেন। মামলার পর ৬ জন অীভযুক্ত জামিনে বেরিয়ে আসে এবং ৪ জন পলাতক রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে এসে অভিযুক্ত আমার স্বামীসহ অন্যান্যরা মামলা উঠিয়ে নিতে আমাকে ও আমার ভাইকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। হুমকির ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ ইং টঙ্গী পূর্ব থানার সাধারণ ডায়রী নং-১৯০২ রজু করি। বর্তমানে আমি আমার সন্তানের নিয়ে আতংকে জীবন যাপন করছি। আমি এঘটনার সুষ্ট তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।
এব্যাপারে ইয়াকুব আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার প্রথম স্ত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইয়াকুব আলী শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং তিনি মোবাইল ফোন ব্যাবহার করেন না। তবে পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তা মনিকে গত প্রায় ৬ মাস পূর্বে ইসলামিক শরিয়া আইনে ইয়াকুব আলী তালাক প্রদান করেছন। তারপরও সে জোর করে বাড়িটি দখল করে রেখেছে। এনিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। এনিয়ে একাধিকভার স্থানীয় ভাবে বিচার বসে, তা সমাধানও হয়েছে। কিন্তু মুক্তামননি সে বিচার মানছে না বরং স্থানীয় প্রশাসন দিয়ে ইয়াকুব আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানী করা হচ্ছে।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই অহিদুজামান অহিদ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে মারামারির ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬ জন বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। বাকি ৪ জন পলাতক রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply