মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ ইউনিট হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের ইউপি ভোটের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না : মীর শাহে আলম বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকারের বৈঠক রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ডেঙ্গুর মতো জাতীয় সংকট সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিরোধ করতে হবে: তথ্য সচিব বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা-বেইজিং আলোচনা চার আলোচ্যসূচি নিয়ে আজ বসছে সচিব সভা ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি: চিফ প্রসিকিউটর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার মঞ্চে অভিনয়ে তমালিকা কর্মকার

জুলাই হত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত শীর্ষস্থানীয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার সব আসামি পলাতক রয়েছেন।
রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাদ্দাম ও ইনান ছাড়া বাকিদের অর্ধেক সম্পদ জব্দ করে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম আমাদের ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করেছে।
তিনি আরো বলেন, সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরো বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। পাশাপাশি নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতা চালিয়েছেন, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত চেয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। অপরদিকে ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত দুই আইনজীবী হাসান ইমাম ও ইসরাত জাহান অনি আসামিদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।
ওই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে আনার কথা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কোনো ঠিকানায় খুঁজে পায়নি। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তাদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দীর্ঘ এই বিচার প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া শুনানিতে ১২৩টি ডকুমেন্টারি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। গত ১৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories