মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় ভেঙেছে ৬১ শতাংশের: জরিপ ঝালকাঠিতে আমির হোসেন আমুর বাড়ি: রাজনীতির কেন্দ্র এখন ময়লার ভাগাড় গণমাধ্যম যেন হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার এমবাপ্পেকে বাংলাদেশে আনবে সরকার দুই সপ্তাহের জন্য দেশে ফিরেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন জাহের আলভীর জামিন, মুক্তিতে কোনো বাধা নেই মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাল ঢাকার বোয়েসেল সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকলো দশ ট্রাক ভারতীয় কাঁচা মরিচ বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে: মীর শাহে আলম

হামের চিকিৎসায় ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, সঞ্চয় ভেঙেছে ৬১ শতাংশের: জরিপ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ পরিবারই চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এক মূল্যায়ন জরিপে দেখা গেছে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে প্রায় ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছে। আর প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ছয়টি (৬১ শতাংশ) নিজেদের সঞ্চয় ভেঙে চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করেছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) যৌথভাবে পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হামের প্রাদুর্ভাবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে দেশের ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী পরিবারের ৭৫ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল চার বছরের নিচে। এছাড়া ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী রোগী ছিল ১৯ শতাংশ এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোগী ৬ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট খাতে প্রতিটি পরিবারকে গড়ে ১৬ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এ ব্যয় মেটাতে গিয়ে ৪ শতাংশ পরিবার সম্পদ বিক্রি করেছে এবং প্রায় ৩ শতাংশ পরিবার অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া সব পরিবারই জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ পরিবার সবচেয়ে জরুরি সহায়তা হিসেবে ওষুধ চেয়েছে। এছাড়া ৩৩ শতাংশ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) সহায়তা এবং ২২ শতাংশ খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
পেশাগত তথ্য দেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে ৭৮ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। তাদের মাসিক আয় ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। জরিপে আরও উঠে এসেছে, অসুস্থ শিশু বা পরিবারের সদস্যের পাশে হাসপাতালে দীর্ঘ সময় থাকতে গিয়ে অনেকেই আয় হারিয়েছেন, এমনকি চাকরিও হারিয়েছেন।
রংপুরের হাজেরা খাতুনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে জরিপে। গত জুনে ১১ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে তিনি ঢাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন। মেয়ের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে তাদের ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।
হাজেরা খাতুন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও এর বাইরে অনেক খরচ থাকে। শুধু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আসতেই আমাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিদিন খাবার কিনতে হচ্ছে, বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার খরচ দিতে হচ্ছে, সঙ্গে আরও নানা দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করেছি। আমার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করেন, কিন্তু এই মাসে তিনি বেতন পাননি। এতে আমাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারিত ঝুঁকির মানদণ্ড অনুযায়ী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে জরুরি নগদ সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল কবির এম আশরাফ আলম বলেন, ‘এই মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, অনেক পরিবার শুধু স্বাস্থ্য সংকট নয়, একই সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক সংকটেরও মুখোমুখি হয়েছে। আমাদের জরুরি সাড়ার অংশ হিসেবে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নগদ সহায়তা দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশে আইএফআরসির হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, ‘হামের এই স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার প্রভাব শুধু হাসপাতালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অসুস্থ শিশু বা পরিবারের অন্য সদস্যের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক পরিবার কঠিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। এই মূল্যায়নের ফলাফল বলছে, জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা এবং শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা দুটোই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আইএফআরসি ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা এবং মানুষকে টিকা নিতে উৎসাহিত করতে এক হাজারের বেশি রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories