পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ বক্স অফিসে দুর্দান্ত সূচনা করেছে। উদ্বোধনের ৩ দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ছবিটি ২৬৪ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২২৫ কোটি টাকা আয় করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে এসেছে ১২৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। গতকাল রোববার এ তথ্য জানিয়েছে ইউনিভার্সাল পিকচার্স।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটিতে গ্রিক বীর ওডিসিয়ুসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। ট্রয় যুদ্ধ শেষে নিজ দেশে ফেরার বিপদসংকুল যাত্রার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে এতে। ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘ওপেনহাইমার’-এর পর এটি নোলানের প্রথম চলচ্চিত্র। ওপেনহাইমার সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালনাসহ একাধিক বিভাগে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল।
ইউনিভার্সালের ডোমেস্টিক থিয়েট্রিক্যাল ডিস্ট্রিবিউশনের প্রেসিডেন্ট জিম অর বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে (শনিবার পর্যন্ত) যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা বাজারে দ্য ওডিসিকে ঘিরে স্পষ্টভাবেই ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে।’ রেন্ট্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় বক্স অফিসেই শীর্ষস্থান দখল করেছে ছবিটি। রয়টার্সকে জিম অর জানান, ছবিটি সব ধরনের দর্শকের কাছেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। টিকিট ক্রেতাদের অর্ধেকের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে।
বিশ্লেষকদের মতে, উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে ছবিটির এই শক্তিশালী আয় দর্শকদের মধ্যে ক্রিস্টোফার নোলানের জনপ্রিয়তারই প্রমাণ। রেন্ট্র্যাকের মার্কেটপ্লেস ট্রেন্ডস বিভাগের প্রধান পল ডারগারাবেডিয়ান বলেন, ‘চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সম্পর্কে আধুনিক দর্শকদের জ্ঞানকে কখনোই খাটো করে দেখা উচিত নয়। চলচ্চিত্রের প্রতি তাদের সেই অনুরাগ ক্রিস্টোফার নোলানের প্রতি তাদের নিবেদিত ভালোবাসায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। এটি সত্যিই একটি বিশেষ বিষয়।’
দ্য ওডিসি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। উদ্বোধনী রাতের প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া দর্শকদের কাছ থেকে ছবিটি সিনেমাস্কোরে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে। পাশাপাশি রটেন টমেটোজে দর্শক রেটিং পেয়েছে ৯৭ শতাংশ।
উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের হিসেবে এটি নোলানের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিলে, বৈশ্বিক উদ্বোধনী আয়ের দিক থেকে ‘দ্য ওডিসি’ নোলানের তৃতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী চলচ্চিত্র। এর আগে রয়েছে ২০১২ সালের ব্যাটম্যান সিরিজের ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’, যার উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের মুদ্রাস্ফীতি-সমন্বিত বৈশ্বিক আয় ছিল ৩৫৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০০৮ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট’, যার আয় ছিল ৩০৪ মিলিয়ন ডলার।
ইউনিভার্সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ছবিটি দেখতে যাওয়া দর্শকদের অর্ধেকই উন্নত প্রদর্শন প্রযুক্তির প্রেক্ষাগৃহ বেছে নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ শতাংশ আইম্যাক্সে ছবিটি দেখেছেন। নির্বাচিত কিছু আইম্যাক্স প্রেক্ষাগৃহে আসন বিক্রি শুরু হওয়ার এক বছর আগেই ভক্তরা দ্য ওডিসির টিকিট কিনতে শুরু করেছিলেন। আইম্যাক্স জানিয়েছে, টিকিটের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে উত্তর আমেরিকার ৫০ টিরও বেশি প্রেক্ষাগৃহে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে অতিরিক্ত প্রদর্শনীর সময়সূচি যুক্ত করতে হয়েছে।
আইম্যাক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড গেলফন্ড বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আগাম টিকিট বিক্রি থেকেই ৫০ মিলিয়ন ডলারের বুকিং পেয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রি-সেলস। তিনি বলেন, ছবিটির বিশাল পরিসরের কাহিনি ধারণে আইম্যাক্স ক্যামেরা ও ৭০ মিলিমিটার ফিল্ম ব্যবহারের কারণে দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে আরও বেশি আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গেলফন্ডের ভাষায়, ‘অনেক দিক থেকেই এটি অত্যন্ত নিখুঁত, প্রায় পরিপূর্ণভাবে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র।’
অধিকাংশ গবেষকের মতে, হোমারের নামে পরিচিত দ্য ওডিসি মহাকাব্যটি খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম অথবা অষ্টম শতকে রচিত হয়েছিল। লিখিত রূপ পাওয়ার আগে এটি মৌখিকভাবে গাওয়া হতো এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচারিত হয়েছে। নোলানের চলচ্চিত্রে ওডিসিয়ুসের স্বদেশে ফেরার যাত্রার একটি অংশকে কেন্দ্র করে কাহিনি নির্মিত হয়েছে, যেখানে তিনি দেবতা ও দানব, ভয়াবহ ঝড় এবং নানা ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হন।
Leave a Reply