মাতৃরুপী একজন নারীর এ কেমন নিষ্ঠুরতা ! নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির আপন চাচীর বিরুদ্ধে। পারিবারিক কলহের জেরে ওই পাষন্ড নারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির পিতা কাউসার মিয়া।
মঙ্গলাবার (১৪ জুলাই) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই শিশুটি প্রায়ই অস্বাভাবিক ভাবে কান্না করত । এতে শিশুটির মা সায়েবা বেগমের সন্দেহ হয়। কেউ কি তার অনুপস্থিতির সুযোগে শিশুটিকে নির্যাতন করছে, এমন সন্দেহের ভিত্তিতে সম্প্রতি শিশুটির মা ঘরের ভেতরে গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির চাচী পাষন্ড রত্না বেগম ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। পরে শিশুটির মা কান্না শুনে দৌড়ে এসে দেখেন অস্বাভাবিক ভাবে শিশুটা কান্না করছে।
এ ব্যাপারে শিশুটির পিতা কাউসার মিয়া বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশু সন্তানকে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী রত্না বেগম অগোচরে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ঘরের ভিতর একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন করে রেখে চলে যায়। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী রত্না বেগম আমার শিশুটির একটি পায়ে সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙ্গেনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক ভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে। তবে শিশুটির পা ভাঙ্গার ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং ঘটনা সম্পর্কে জানতে শিশুটির মা ও বাবার সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙ্গেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরো জানান, পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply