স্ত্রী জয়নাব আলীকে তালাক দেয়ার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে কনটেন্ট তৈরির জন্য তোপের মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের আলোচিত টিকটকার আলী হায়দরাবাদী। রেকর্ডকৃত ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
টিকটকার আলী তার ভাইদের সামনে বিয়েবিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে জয়নাবকে বলছেন, ‘আমি আমার ভাইদের সামনে তোমাকে তালাক দিচ্ছি।
এ ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তার জয়নাব আরেকটি ভিডিও নিয়ে হাজির হয়েছেন। সেখানে তাকে স্পষ্টতই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখা গেছে। একইসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে নিজের সুরক্ষার দাবিতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
জয়নাবকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে আমার আবেদন, আমাকে এই দানবের হাত থেকে বাঁচান। অনুগ্রহ করে আমাকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিন। আমার জীবন চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে জানান, আলী তাকে তালাক দেয়ার পাশাপাশি গুরুতর পরিণতির হুমকিও দিয়েছেন। জয়নাবের ভাষ্যমতে―আলী দাবি করেছেন, তার লাখ লাখ ফলোয়ার এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সেই প্রভাবে তাকে (জয়নাব) খুন করে ফেলতে পারেন।
টিকটকার আলীর বিরুদ্ধে জয়নাব এসব অভিযোগ তোলার পর সেসব সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেটিজেনরা দাবি জানিয়েছেন, বিষয়টি যেন তদন্ত করা হয় এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়।
এদিকে স্ত্রীকে তালাক দেয়ার দৃশ্য রেকর্ড করে কনটেন্ট তৈরি নিয়ে বিতর্ক শুরুর পর টিকটকার আলী পরবর্তীতে জয়নাবের তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নতুন একটি ভিডিও বার্তায় হাতে পবিত্র কুরআন নিয়ে জয়নাবের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করতে দেখা গেছে।
জয়নাবের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের জবাবে টিকটকার বলেন, আমি তার হাত বা আঙুল ভাঙিনি। আর তালাকের ভাইরাল ভিডিওর ব্যাপারে জানান, এটি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রমাণ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল। আলী বলেন, আমি প্রমাণ হিসেবে তালাকের ভিডিওটি রেকর্ড করেছিলাম। কারণ, আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আগে থেকেই আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
টিকটকার আলী অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর জয়নাবের পরিবার তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছে। এই পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমি কখনোই ভাবিনি যে জয়নাব এত নিচে নামতে পারে।
Leave a Reply