দলের নাম ভাঙিয়ে ফিলিং স্টেশন থেকে জোরপূর্বক পেট্রোল নিয়ে খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির ঘটনায় যশোরে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে যশোর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন- চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম কবির ওয়াসিম এবং একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য জাকির হোসেন ওরফে জিকো দফাদার।
এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুবদলের এই ২ নেতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। এই অবস্থায় যুবদলের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের এই ২ নেতার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে যুবদল নেতা শামীম কবির ও জাকির হোসেন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সদর উপজেলাধীন চুড়ামনকাটি শানতলা এলাকায় অবস্থিত যশোর ফিলিং স্টেশনে যান। পরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক তারা খোলা তেল নেন। এরপর সেই তেল বেশি দামে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ঘটনাস্থলে যান। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তিনি এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার তাদের বহিষ্কার করা হলো।
তবে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই দুই নেতা তেল নেননি বলে দাবি করেছেন সদর উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর রায়হান তুহিন। তার দাবি, ‘স্থানীয়ভাবে দুই যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে জোর করে তেল নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে আমরা সরেজমিনে তদন্ত করেছি। ঘটনার দিন রাতে তারা পাম্পে গিয়েছিল বিশৃঙ্খলা মেটাতে। যেহেতু, তেল নিয়ে অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসন দেখছে, তারপরও তারা সেখানে যাওয়ার কারণে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের এই নেতা বলেন, ‘কেউ দলের ঊর্ধ্বে নয়। বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply