জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ইংরেজি বিভাগের ৫১তম আবর্তনের মনিষা সরকার।
তার অভিযোগ―সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ‘টুকো দ্য আগলি’ নামের একটি ফেসবুক পেজের কনটেন্ট নির্মাতা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা যাচাই না করেই গোলাম রব্বানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওর মন্তব্য অংশে মনিষা সরকার আপত্তি জানালে তাকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেন রব্বানী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মনিষা সরকার বুধবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় অবিলম্বে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ঘটনাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইতিহাস বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, ক্যাম্পাসের একটি দেয়াল গ্রাফিতিকে ঘিরে ‘টুকো দ্য আগলি’ নামের পেজ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ভিডিওটির ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মনিষা সরকার মন্তব্য করলে তাকে উদ্দেশ্য করে খুবই কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা হয়। একজন পুরুষ শিক্ষার্থী কীভাবে প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেক নারী শিক্ষার্থীকে এ ধরনের ভাষায় আক্রমণ করতে পারে—এটি খুবই উদ্বেগজনক।
লামিশা জামান আরও বলেন, মন্তব্যটির সম্পাদনার ইতিহাসে দেখা যায়, প্রথমে আরও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা পরে পরিবর্তন করা হয়। তার মতে, এ ধরনের মন্তব্য মূলত হুমকিমূলক এবং তা নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য উদ্বেগের বিষয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযোগপত্র জমা দিতে গেলে প্রক্টর অফিস তা গ্রহণ করলেও শুরুতে ফেসবুক-সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়, যা তাদের কাছে অবহেলার প্রকাশ বলে মনে হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী সভায় এ নিয়ে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না এবং তাকে হয়রানির কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। তার ভাষ্য, আমি কেবল একটি মন্তব্যের জবাব দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তবে মন্তব্যে ব্যবহৃত শব্দচয়নের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন রব্বানী। তিনি বলেন, আমার মন্তব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দ আপত্তিকর হয়ে থাকলে আমি অনুতপ্ত এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
উল্লেখ্য, এর আগেও অভিযুক্ত গোলাম রব্বানী তার পেজের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কন্টেন্ট নির্মাণ করে সমালোচিত হয়েছেন।
Leave a Reply