জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টা নাগাদ রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধ এলাকায় আসেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনা করবেন পল কাপুর। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে পল কাপুরের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
এর আগে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
সকাল ১১টার দিকে রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, ডা. মাহবুবুর রহমান, নায়েবা ইউসূফ ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকা–ওয়াশিংটন কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় পৌঁছেছেন পল কাপুর। রাতে আটটার কিছু আগে তিনি ঢাকায় আসেন। মধ্য ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুরের এটিই প্রথম ঢাকা সফর। ট্রাম্প আমলে বাংলাদেশের নির্বাচনের পর তার সফরকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ব্যবসা, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও ভিসাসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার থাকতে পারে। মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সই করা অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি মেনে চলার বার্তা থাকবে নতুন সরকারের প্রতি। এ কারণে চুক্তির আগে এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেছে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।
দিল্লি থেকে তিন দিনের সফর শেষ করে ঢাকায় পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের পরিচালক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসন।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় জানান, পল কাপুরের সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা। সফরকালে তিনি নতুন সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
Leave a Reply