রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এরই মধ্যে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কোনও সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তা নেবেন একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, এমন সেনারা থাকলেও তারা থাকবে সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে। জেলেনস্কির ভাষায়, এই আলোচনায় শুধু ট্রাম্পই নন— আরও বৃহত্তর এক জোটের প্রতিনিধিরাও যুক্ত আছেন।
বার্তাসংস্থা ইউক্রইনফর্মকে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সত্যিকারভাবে নিশ্চিত করতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনা, তাই সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রই নেয়’। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেন নিজ ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা দেখতে আগ্রহী। তার মতে, এমন ব্যবস্থা দেশটির নিরাপত্তা জোরদারের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, জেলেনস্কির পক্ষ থেকে এই মন্তব্য এসেছে এমন সময় যখন পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করছে ইউক্রেন। তিনি জানান, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর নিরাপত্তা উপদেষ্টারা আগামী ৩ জানুয়ারি ইউক্রেনে বৈঠক করবেন। সেখানে প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। এরপর ৬ জানুয়ারি ফ্রান্সে শীর্ষ নেতা পর্যায়ের আলচনা হবে।
জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছে। সম্প্রতি ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের পর আসন্ন আলোচনায় যুক্ত হওয়ার জন্য তিনি ট্রাম্পের টিমকে ধন্যবাদ জানান।
তবে পরে এক মার্কিন গণমাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন জেলেনস্কি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভের এখনও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা জরুরিভাবে প্রয়োজন।
Leave a Reply