ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সতীশ শাহ আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার দীর্ঘদিনের সহঅভিনেত্রী ও বন্ধু রত্না পাঠক শাহকে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। কাজের সূত্র ধরেই সতীশের রত্না পাঠক শাহর বন্ধুত্ব।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায় সতীশ মৃত্যুর মাত্র ৩ ঘন্টা আগে রত্নাকে হোয়াটসঅ্যাপ মজার বার্তা পাঠান। রত্না পাঠক বলেন, আমি গত ২৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে সতীশআমাকে হোয়াটসঅ্যাপে লিখেছিল, ‘বয়সের কারণে প্রায়শই আমাকে প্রাপ্তবয়স্ক ভেবে ভুল করা হয়’। আমি হেসে ২টা ১৪ মিনিটে উত্তর দিলাম, হ্যা তুমি ঠিক বলছো। কিন্তু এর মাত্র আড়াই ঘণ্টা পর, বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটে প্রযোজক জেডি মজেঠিয়ার কাছ থেকে জানলাম সতীশ আর নেই। তিনি লিখেছেন, প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল কেউ বাজে রসিকতা করছে। পরে যখন সত্যিটা বুঝলাম, মনের ভেতর যেন শূন্যতা নেমে এল। সতীশ যে মানুষটা হাসতে পারতো, জীবনের প্রতিটি ধাক্কা ঠাট্টায় উড়িয়ে দিতে পারতো আর সে আর নেই।
রত্না জানান, খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাদের সহকর্মী ও বন্ধুমহলে এক ধরনের স্তব্ধতা নেমে আসে। সবাই পরস্পরকে ফোন করে যাচাই করছিলেন খবরটি সত্যি কিনা। আশ্চর্যের বিষয়, সেদিন সতীশ তার অনেক বন্ধু ও সহকর্মীকেও একই রকম হালকা মেজাজের বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যেন বিদায়ের আগে সবাইকে হাসি উপহার দিয়ে যাচ্ছেন।
সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’-এর জনপ্রিয় জুটি মায়া সারাভাই ও ইন্দ্রবর্ধন সারাভাই যাদের মজার কথোপকথন ও নিখুঁত কমেডি আজও দর্শকের মনে অমলিন। মায়া চরিত্র অভিনয় করেছিলেন রত্না এবং ইন্দ্রবর্ধন চরিত্রে সতীশ। এই কাজ করতে গিয়েই দুই তারকার বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। ‘সারাভাই ভার্সেস সারাভাই’-এর মতো কালজয়ী ধারাবাহিকে সতীশ শাহ তার চরিত্রে যে হাস্যরস, উষ্ণতা ও জীবনের দর্শন এনে দিয়েছিলেন, তা ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তার অভিনয় শুধু মানুষকে হাসায়নি, জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তে আনন্দ খুঁজে নিতে শিখিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় খাবার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সতীশ শাহ। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারেননি। প্রথমে কিডনি জটিলতার গুজব ছড়ালেও তার সহঅভিনেতা রাজেশ কুমার জানান, মৃত্যুর কারণ ছিল হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।
Leave a Reply