শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী গাজীপুরে কলকারখানায় স্বস্তি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি বগুড়ার নন্দীগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

‘ভালো মেয়ে’ হওয়ার লড়াই বাঁধনের, অভিনেত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল

বিনোদন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫
  • ৬১ বার

দেশের বিনোদন অঙ্গনের পরিচিত মুখ আজমেরী হক বাঁধন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেন। এবারও নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে আলোচনায় বাঁধন। নিজের জীবনের ভেতরের সংগ্রাম ও আত্মজাগরণের গল্প তুলে ধরে একটি আবেগময় ও অনুপ্রেরণামূলক পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অভিনেত্রী বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এই দীর্ঘ লেখাটি ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাঁধন লিখেছেন, আমি একসময় ছিলাম সমাজের চোখে ‘ভালো মেয়ে’। বাবা-মায়ের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক পরতাম, আশপাশের মানুষের বিচার-বিবেচনায় নিজেকে গড়ে তুলতাম। এমনকি কৈশোরে জিন্স পর্যন্ত পরিনি, কারণ তখন সেটা ‘ভদ্র মেয়েদের’ পোশাক নয় বলে মনে করা হতো। আমি ভাবতাম, আমি হব সেই আদর্শ মেয়ে, যাকে সবাই ভালোবাসবে। অথচ একসময় সেই সাজানো জীবনটাই ভেঙে পড়ল।
তিনি জানান, সমাজ ও সংস্কৃতির চাপেই তিনি পা রেখেছিলেন এক সহিংস দাম্পত্য জীবনে, যার পরিণতি হয়েছিল রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত। সেই অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর দাগ কেটেছে।
বাঁধনের ভাষায়, ২০০৬ সালের লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতাই ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি প্রথম নিজেকে ‘নারী’ পরিচয়ের বাইরেও একজন ‘মানুষ’ হিসেবে ভাবতে শিখেছিলেন। সেই থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনচেতা মানসিকতা। তিনি লিখেছেন, তখনো আমি লাজুক ছিলাম, কিন্তু সত্যবাদী ছিলাম। সেই প্রতিযোগিতা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল, আবার বাঁচার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কাছে আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ।
তার ভাষ্যে উঠে আসে ‘ভালো মেয়ে’ হওয়ার চাপের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। দ্বিতীয় বিয়েও বিচ্ছেদে গিয়ে শেষ হয়। তখন সমাজ তাকে ‘সবচেয়ে খারাপ নারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেয় বলে মনে করেন তিনি। তবে সেখান থেকেই বাঁধনের নিজের মতো করে বাঁচার, নিজের অধিকারের জন্য লড়ার পথচলা শুরু হয়।
ফেসবুক পোস্টে বাঁধন বলেন, একদিন এক বন্ধু আমাকে বলল, তুমি খুব বুদ্ধিমানের মতো কথা বলো, কিন্তু তোমার পোশাকটা একটু ভদ্র হওয়া উচিত। আমি শুধু হেসে দিয়েছিলাম। একবার টিভি সাক্ষাৎকারে হাতাকাটা ব্লাউজ পরায় এক টিভি চ্যানেলের কর্মী তাকে চুল দিয়ে কাঁধ ঢাকার উপদেশ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাও তিনি অকপটে তুলে ধরেন। বাঁধনের বক্তব্য, বহু বছর ধরে আমাকে পোশাক নিয়ে উপদেশ শুনতে হয়েছে— একজন মা হিসেবে, বুদ্ধিমান নারী হিসেবে, রক্ষণশীল পরিবারের সদস্য হিসেবে কী পরা উচিত আর কী নয়, সেটা নিয়ে। কিন্তু এখন এসব নিয়ে আমার কিছুই যায় আসে না। সবশেষে তিনি লেখেন, আমি এখন মুক্ত। আমার জীবন কেমন হবে, কী পরব, কী বলব বা কী ভাবব—সেটা শুধু আমিই নির্ধারণ করব। আর কেউ নয়।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories