ভারতীয় নাট্যজগতের কিংবদন্তি নির্মাতা রতন থিয়াম মারা গেছেন। বুধবার (২৩ জুলাই) ভোরে মৃত্যু হয়েছে তার। মহামারি করোনাভাইরাস পরবর্তী জটিলতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করছিলেন। এ অবস্থায় মৃত্যু হলো তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মণিপুরের ইম্ফলের রিমস হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে নির্মাতা রতনের। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে ইন্ডাস্ট্রিতে।
১৯৭০-এর দশকে শুরু হওযা ভারতীয় থিয়েটারে ‘থিয়েটার অব রুটস’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন রতমন। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে প্রাচীন ভারতীয় থিয়েটারের ঐতিহ্যকে ব্যবহার করে নাটক লিখেছেন তিনি। একইসঙ্গে সেসব মঞ্চস্থ করেছেন। তিনি ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার চেয়ারপার্সন ছিলেন। আবার সংগীত নাটক অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন।
প্রখ্যাত এ নাট্য নির্মাতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ভারতীয় থিয়েটারের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মণিপুরের সম্মানি ব্যক্তি রতন থিয়ামের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত আমি। আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। তার শিল্প, দৃষ্টিভঙ্গি ও মণিপুরী সংস্কৃতির প্রতি তার অটল নিষ্ঠা কেবল থিয়েটার জগতকেই নয়, মণিপরুকেও সমৃদ্ধ করেছে।
সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, রতনের কাজ মণিপুরকে বহন করে, এই রাজ্যের গল্প, সংগ্রাম ও সৌন্দর্যকে প্রতিধ্বনিত করে। তার আত্মা শান্তিতে থাকুক ও তার রেখে যাওয়া কাজ এবং তার অনু্প্রেরণায় অসংখ্য মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকুক সে। তার অপরিসীম অবদানের মাঝে আমরা আমাদের শক্তি খুঁজব।
প্রসঙ্গত, নির্মাতা রতন ‘চক্রব্যূহ’, ‘উত্তর প্রিয়দর্শী’, ‘হে নুংশিবি পৃথিবী’, ‘চিংলো মাপান তাম্পক আমা’র মতো নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৯৮৯ সালে তাকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে ভারত সরকার।
Leave a Reply