শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী এআই যেন দেশের বেকারত্ব আরও প্রকট না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি লংমার্চে গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হলে আমরাই করতাম: মীর শাহে আলম এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু: শিক্ষামন্ত্রী গাজীপুরে কলকারখানায় স্বস্তি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ, প্রজ্ঞাপন জারি বগুড়ার নন্দীগ্রামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

বিচিত্রায় ৪৭ বছর আগের জয়া ভাদুড়ীর সাক্ষাৎকার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
  • ৫৪ বার

গুনে গুনে ৪৭ বছর আগের একটা সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে এনেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী (সিনেমাটোগ্রাফার শাখায়) শফিকুল ইসলাম স্বপন। মীর শামসুল আলম বাবুর সংগ্রহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও দেন। তিনি স্কলারশিপ পেয়ে প্রতিবেশী দেশ পুনা ফিল্ম ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ক্যামেরার ওপর পড়াশোনা করতে করতে কিছুদিন ঢাকার পত্রিকার হয়ে সাংবাদিকতার সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। তাই কাছ থেকে দেখেছেন বলিউডের সব মেগাতারকাদের। তাদের একজন জয়া ভাদুড়ী। যিনি নিজেও এক সময় এখানকার ছাত্রী ছিলেন। তখন তিনি ভাদুড়ী নামে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি জয়া বচ্চন নামেই পরিচিত। পুনাতে পড়াকালীন এক অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার নেন জয়ার। অধুনালুপ্ত বিচিত্রায় ছাপা হওয়া স্বপনের নেওয়া সে সাক্ষাৎকারটি আজকালের খবরের জন্য পুনঃপ্রকাশ করা হলো
বোম্বের নামী ও দায়ী অভিনেত্রী জয়া ভাদুড়ী’ এখন নতুন কোন ছবি আর হাতে নিচ্ছেন না, পুরোনো ছবিগুলোর কাজই শুরু করছেন। বাঙালী জয়া ভাদুড়ী বোম্বের সুপার স্টার অমিতাভ বচ্চনের ঘরণী। ওদের একটি মাত্র মেয়ে রয়েছে। অমিতাভ বচ্চন স্যুটিং উপলক্ষে পুনায় এসেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন জয়া ভাদুড়ী। পুনায় এসে জয়া ফিল্ম ইনস্টিটিউটেই সময় কাটিয়েছেন। এর কারণও অবশ্য ছিল। জয়া একদিকে পুনার ছাত্রী ছিলেন সে টান এবং অনাদিকে ভাল ভাল ছবি দেখার আকাংখা-ও দু’য়ে মিলেই তাঁকে এখানে আসতে বাধ্য করেছিল। এভাবেই এই ইনস্টিটিউটেই জয়া ভাদুড়ীর সঙ্গে আমার পরিচয়। পরিচয় থেকে আলাপের অন্তরঙ্গতা। এক সময় আমি কিছু ছবি তুলতে চাইলে তিনি, বারণ করে বললেন, এখানে এত ভিড়ে ছবি তোলা আমার পছন্দ নয়। হোটেলে আসুন, ঘরোয়া পরিবেশে ছবি তোলা যাবে।” সেভাবেই সময়ও ঠিক করা গেল।
পুনায় জয়া এবং অমিতাভ উঠেছেন ‘ব্লু ডায়মন্ড’ হোটেলে। হোটেলে পৌছে দেখি তিনি তাঁর বাচ্চাকে পড়াচ্ছেন। আমীদের দেখেই তিনি তখনই সাক্ষাৎকারে বসলেন না। ছবি নেয়া হবে একথা বলতে তিনি হাল্কা একটা মেক আপ নিয়ে এলেন। তার প্রথম ছবি ‘মহানগর’ জেনেও জিজ্ঞেস করলাম, আপনার প্রথম ছবি কোনটি? তিনি নির্ধিধায় উত্তর দিলেন, ‘গুড্ডি’। জিজ্ঞেস করলাম— “মহানগর ?” ‘’মহানগরে কাজ করেছি। তবে ফিল্মে ইনস্টিটউটের ডিগ্রীর পর “গুড্ডই’ই আমার প্রথম ছবি।’
ফিল্মে আসবেন অথবা ফিল্মে নাম কনবেন এমন কথাই বা ভাবলেন কখন? আবার কখনই বা উপলব্ধি করলেন আপনি একজন স্টার। এ প্রশ্নের উত্তরে জয়া হেসে উত্তর দিলেন, আসলে আমি কোনদিনই ভাবিনি অভিনেত্রী হব। মানিক কাকুই (সত্যজিৎ নয়) আমাকে ‘মহানগরে অভিনয় করান। এ সময় আমি কিছু বুঝতামও না। এর পরে সবার উৎসাহেই আমি সিনিয়র কেম্ব্রিজ পাস করার পর ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই।
ইন্সস্টিটিউট জীবনের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে জড়া বলবেন, জীবনের স্মরণীয় দুটো বছর কেটে আমার ইন্সটিটিউটে। আমার জীবনে যা কিছু তা আমি ইন্সটিটিউটের কল্যানেই পেয়েছি। শিক্ষকদেরকেও আমি কখনও ভুলতে পারব না।
ইন্সস্টিটিউটের পাঠ্যরীতি নিয়েও আলোচনা হল। বর্তমান ও অতীতের ইনস্টিটিউটের পার্থক্য কি এবং এখন কোন ছাত্র যদি তার ডিপ্লোমা ফিল্মে অভিনয় করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করে তা’হলে তিনি কি করবেন জানতে চাওয়া হলে তিনি উত্তর কররেন, কোর্সের তো অনেক রদবদর ঘটেছে। কারণ আমাদের সময়ে যে অভিনয়ে ভর্তি হত সে শুধু অভিনয়ই করতো। আর এখন তাঁকে ফটোগ্রাফী, পরিচালনা, সম্পাদনা সবই করতে হয়। কিন্তু আমার মতে অভিনয়কারীদের এত কিছু না জানলেও চলে। তবে পরিচালনা কোর্সের বা অন্যান্য টেকনিক্যাল কোর্সওয়ালাদের জন্যে এটি খুবই ভাল। সবচেয়ে বড় কথা ইনস্টিটিউটের পূর্বেকার সে পরিবেশ যেন আর খুঁজে পাচ্ছি না। ইনস্টিটিউটে ছবি অবশ্যই করব। তবে একটা শর্তে। তা হচ্ছে স্ক্রিপ্ট ভাল হতে হবে এবং কাজটা তাড়াতাড়ি করতে হবে।
এমনি আরো আলোচনা হয়। নিচে সেগুলো প্রশ্নও উত্তর আকারে দেয়া হোল।
প্রশ্নঃ কমার্শিয়াল এবং আর্ট ফিল্মের বিতর্কের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
উত্তর: আমার কাছে এ ধরনের কোন পৃথক সত্ত্বা নেই। আমার কাছে সঠিকভাবে জনগণকে টানতে পারছেন কিনা সেটাই বড় কথা।
প্রশ্নঃ একদিকে কারো কাজের অফার অন্যদিকে টাকার অফার কোনটা বেছে নেবেন?
উত্তরঃ ভালো কাজটাকেই বেছে নেবো।
প্রশ্নঃ- কোন ছবিতে অভিনয় করে সবচেয়ে বেশী তৃপ্তি পেয়েছেন? এ পর্যন্ত কয়টা ছবিতেই বা অভিনয় করলেন?
উত্তরঃ – বলতে গেলে কোন ছবিই নয়। তবে গুড্ডি’র কথা উল্লেখ করতে হয়। ২০/২৫ টা।
প্রশ্নঃ – ক্যারিয়ার শুরু করার সময় কিছু ভেবেছিলেন কি?
উত্তরঃ – না সে রকম কিছুই ভাবিনি, তবে আমাকে তো সংগ্রাম করতে হয়নি। যদি অন্য মেয়েদের মত সংগ্রাম করতে হতো তাহলে আমি মোটেই আসতাম না।
প্রশ্নঃ- ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ছবিতে অভিনয়ের জন্য ডাকলে যাবেন কি?
উত্তরঃ – তা পেলে নিশ্চয়ই করবো।
প্রশ্নঃ আপনার প্রথম প্রেম সম্পর্কে কিছু বলুন?
উঃ- এ সম্পর্কে অনেক বলেছি – আর বিশেষ কি বলবো?
প্রশ্নঃ – আপনার ছেলে মেয়েকে এ লাইনে যেতে দেবেন।
উত্তরঃ- যদি তারা যায় তবে নিশ্চয়ই।
প্রশ্নঃ- আজকাল সাদাসিধে কোন অভিনেত্রী দেখলেই তাকে দর্শক আপনার সাথে তুলনা করে-আপনার মতামত?
উঃ- আমি আর কি বলি। এ সম্পর্কে দর্শকদের অভিমতই সবচেয়ে বেশি দামী। সূত্র: — সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories