দক্ষিণ কোরিয়ার পপ সংগীত অর্থাৎ কে-পপ গ্রুপ ‘বিটিএস’র এক পাগলা নারী ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পুলিশ। বুধবার (১১ জুন) গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিটিএস ব্যান্ডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও গীতিকার জিওন জংকুকের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ বছর বয়সী ওই চীনা নারীকে।
এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার বাংলাদেশ সময় ৩টা ২০ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে কে-পপ তারকা জংকুকের অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে একটি কম্বিনেশন লকে এলোমেলোভাবে নম্বর লিখতে থাকেন ওই চীনা নাগরিক। গায়ককে এক নজর দেখার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃত নারী।
সংগীতশিল্পী জংকুক সামরিক চাকরি শেষ করে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরই এ ঘটনা ঘটে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই তার তিন ব্যান্ড সদস্যকে বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ কারণে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এমনকি ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনার সৃষ্টি হয় এবং প্রিয় তারকাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা বাড়ে।
জানা গেছে, এ মাসের শেষ দিকে সাতজন বিটিএস সদস্যকে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে এবং তাদের সংস্থা হাইব পুনর্মিলনের ইঙ্গিত দিয়েছে। কেননা, এর আগে ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে খ্যাতির শীর্ষে থাকা অবস্থায় বিরতিতে গিয়েছিলেন তারা।
বিটিএস ব্যান্ডের অসংখ্য ভক্ত রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশ থেকে এসেছে। প্রিয় তারকাদের প্রত্যাবর্তন উদযাপনে হাইবের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হয়েছেন তারা। এদের অনেকেই বেগুনি রঙের পোশাক পরেছিলেন, যা বিটিএস’র সিগনেচার রং এবং তাদের হাতে ছিল ব্যান্ডের বড় ব্যানার ও ছবি।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী সব সুস্থ পুরুষকে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক প্রায় দুই বছর চাকরি করতে হয়। তবে অলিম্পিক পদক বিজয়ী এবং ধ্রুপদী সংগীতজ্ঞদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী সেনাবাহিনীর চাকরিতে যায় বিটিএস ব্যান্ডের সদস্যরা।
এদিকে বিটিএস তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে, দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ব্যান্ড সদস্যদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার নিয়মটি বাদ দেয়া নিয়ে অনেক বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। অনেকেই যুক্তি দেখিয়েছিলেন, এরইমধ্যে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করে দেশের সেবা করেছেন বিটিএস ব্যান্ড এবং তাদের ব্যান্ড নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া অধিকতর লাভজনক বলেও জানিয়েছিলেন অনেকে।
Leave a Reply