শোবিজ তারকাদের নিয়ে বরাবরই আগ্রহটা বেশি থাকে সাধারণ দর্শক-শ্রোতা এবং ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের। প্রিয় তারকা ছোটবেলায় কী করেছেন, কোথায় পড়ালেখা করেছেন, কোন পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, প্রেম-ভালোবাসা থেকে ব্যক্তিজীবনের বিতর্কিত বিষয়ও বাদ রাখেন না খোঁজ রাখতে। আবার সাম্প্রতিক তারকারাও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সহজেই যুক্ত থাকেন দর্শকদের সঙ্গে।
অভিনেত্রী-অভিনেতা ও শিল্পীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় তাদের ক্যারিয়ারবিষয়ক নানা তথ্য শেয়ার করে থাকেন। কেউ কেউ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ও তুলে ধরেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এক অভিনেত্রীর ছোটবেলার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। যিনি পর্দার সফল নায়িকা ছাড়াও ব্যক্তিজীবনে সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ছবির এ শিশুটি বিনোদন জগতে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। অনবদ্য অভিনয়গুণে দর্শকমহলে বহুল পরিচিতি লাভ করলেও, তার কাছে জীবনের সফলতা ছিল দেশের সর্বোচ্চ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিজীবি হওয়া। আর বাবার ইচ্ছা পূরণ করার জন্যই সরকারি কর্মকর্তা হয়েছেন তিনি।
শোবিজের ব্যস্ত জীবন এবং লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন সামলেও দেশের সর্বোচ্চ ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। অনেকেই হয়তো চিনতে পারেননি তাকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ছবির এই শিশু মেয়েটি ভারতের কন্নড় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় নায়িকা কীর্থনা।
হ্যাঁ, এই অভিনেত্রী দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তা হয়েছেন। আই এ এস (ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের লক্ষ্য পূরণ করেছেন। ২০১৯ সালে আইএএস পরীক্ষায় সফল হয়েছেন তিনি। এর আগে সিনেমায় নিয়মিত কাজ করার সময়ও পাঁচবার এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছিলেন। সেই ব্যর্থতাকেই পেছনে ফেলে সাফল্যের শিখরে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী কীর্থনা।
মাত্র চার বছর বয়স থেকে অভিনয় শুরু করেন কীর্থনা। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘কাপুরদা গম্ভে’, ‘গঙ্গা যমুনা’, ‘মদ্দিনা আলিয়া’, ‘উপেন্দ্র’, ‘সার্কেল ইন্সপেক্টর’, ‘লেডি কমিশনার’, ‘হাব্বা’সহ একাধিক সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন তিনি। ঝুলিতে ৩২টি সফল সিনেমার নাম রয়েছে। যা একসময় তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে জায়গা করে দিয়েছিল।
এ অভিনেত্রী কর্ণাটকের বাসিন্দা। কর্ণাটকের হোসকারে গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। তারপর পড়ালেখার জন্য ব্যাঙ্গালোরে চলে যান। স্কুল শেষ করার পর ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। এ সময় ক্যামেরার সামনে বেশ ব্যস্ত সময় কেটেছে তার। কিন্তু সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি থেমে ছিল না। ২০১১ সালে কর্ণাটক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপরই লক্ষ্য হয়ে যায় আইএএস।
পর্দার একজন সফল অভিনেত্রীর পর সফল কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা―দুই মাধ্যমই বেশ দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন কীর্থনা। এখন অভিনয়ে নিয়মিত দেখা না গেলেও তার এই সাফল্যের গল্প সবার মুখে মুখে এবং উদাহরণ হয়ে উঠেছেন এ অভিনেত্রী।
Leave a Reply