ভয়ঙ্ক’র দৃশ্য, আবারো সেই উত্তরপ্রদেশ। মৃতদে’হ এবং সম্ভবত কোভিডে মৃতদের। বুধবার সকালে স্থানীয় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এক মর্মা’ন্তিক ছবি। দেখা যাচ্ছে বালির নীচ থেকে উঁকি দিচ্ছে একটা দেহ, যাঁর মুখে তখনও অক্সিজেনের মাস্ক পরানো! আর একটি ঘা’টে দেখা যাচ্ছে, সার্জিকাল গ্লাভস পরা হাত বেরিয়ে রয়েছে। অন্য আর একটিতে দেখা যাচ্ছে, সেই মৃতদেহের মুখে মাস্ক পরানো। গত কয়েক দিনে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গঙ্গার ঘা’টে ঘা’টে এই দৃ’শ্যই দেখা গিয়েছে।
গত মাসে দেখা যায়, গঙ্গায় দেহ ভেসে আসছে। বা বালিতে চা’পা দিয়ে গঙ্গার পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে কোভিড রোগীদের দেহ, সেগুলোকে সৎকার করা হয়। এ বার বৃষ্টি হতেই ফের দেহ ভাসছে, বালি সরে গিয়ে তা বেরিয়ে আসছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে, এগুলো অধিকাংশই করোনায় মৃতদের, প্রশাসনের দৃষ্টি এড়িয়ে তাঁদের পুঁতে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪০টি দেহ ভে’সে উঠতে দেখা গিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় ধ’রা পড়েছে সে সব দৃশ্য। মৃ’তদেহগুলি নদী থেকে সরানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন। প্রয়াগরাজ পুরসভার জোনাল অফিসার নীরজ কুমার সিং জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টায় ৪০টি দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে। সব নিয়ম মেনে দে’হের শেষকৃ’ত্য করা হচ্ছে।
প্রয়াগরাজের মেয়র অভিলাষা গুপ্তা নন্দী জানিয়েছেন, এ রাজ্যে মৃ’তদেহ সমাধি’স্থ করার বহু পুরোনো রীতি আছে। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় এ ভাবে দে’হগুলি বেরিয়ে আসছে। তার শেষকৃত্যের ব্যবস্থা হচ্ছে।
উত্তরপ্রদেশের গঙ্গা তীরবর্তী কনৌজ, কানপুর, উন্নাও, ফতেপুর, সম্বল, প্রয়াগরাজ, প্রতাপগড়, শাহজাহানপুর, হারদই, ফারুকাবাদ, বদায়ুঁ, কাসগঞ্জ, আলিগড়, হাপুর, বুলন্দশহর, মুজফফরনগর, মিরাট, বিজনৌর জুড়ে প্রায় ১১৪০ কিলোমিটার এলাকায় চোখে পড়েছিল এই মৃ’তদেহের ছবি।
স্থানীয়দের বেশির ভাগের মতে, করোনা আক্রা’ন্তদের সৎকারের জায়গা নেই বলে এ ভাবে ভাসিয়ে দিচ্ছেন আত্মীয়রা। আবার অনেকে বলেছেন, নদীতে দেহ ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথা প্রচলিত আছে অনেক জায়গায়। কিন্তু এত বেশি মৃ’তদেহ একসঙ্গে কেন? তার সদুত্তর নেই প্রশাসনের কাছেও। স্থানীয়দের আরও দাবি, এগুলো এই সব মৃতের কোনও হিসেব নেই প্রশাসনের কাছে।
Leave a Reply