ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল (বুধবার ১০ আগস্ট) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে মন্তব্য করে বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মূলত, এটি গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপপ্রয়াস। বাংলাদেশ সাংবাদিকতা কঠিন হয়ে উঠছে।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবিক অর্থে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার শেষ হয় না। এ অবস্থায় অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে টিআইবি। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় বিশেষ আইনের দাবিও জানিয়েছে তারা।
দেশের মানুষ এখন প্রভাবশালী ও ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজদের অর্থ পাচার এবং নানাবিধ দুর্নীতির দায়ে বহুমুখী সংকট মোকাবিলা করছে। এ সময় দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটন ও প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
তিনি বলেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য মতে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত অন্তত ১১৯ জন সাংবাদিক নানামুখী হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে, অতিসম্প্রতি স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহকালে ঢাকা ও বরিশালে অন্তত তিনজন টেলিভিশন সাংবাদিকের ওপর সংঘবদ্ধ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ব দায়মুক্তি সূচক-২০২১ অনুযায়ী, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশের ১০ম অবস্থান সাংবাদিকতার প্রকট ঝুঁকির দৃষ্টান্ত। ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক ২০২২’ অনুযায়ী, ১০ ধাপ পিছিয়ে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬২তম। এটি প্রমাণ করে যে সাংবাদিকতা এ দেশে ধারাবাহিকভাবেই কঠিন হয়ে উঠছে।
Leave a Reply