সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

পারলারের আড়ালে চলে রূপান্তরকামীদের অস্ত্রোপচার, প্লাস্টিক সার্জারি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৩০ জুলাই, ২০২২
  • ৭৫ বার

বিউটি পারলারে নারীদের রূপচর্চা সেবার আড়ালে রূপান্তরকামী পুরুষদের অস্ত্রোপচার করে আসছিল একটি চক্র। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শতাধিক রূপান্তরকামী পুরুষের অস্ত্রোপচার করেছে তারা। চক্রের মূল হোতা হাদিউজ্জামান। এক সময় খুলনার এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। রাজধানীর মালিবাগে মাহি হাসান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় স্ত্রীর নামে ‘লেজার বিউটি পারলার’ খুলে শুরু করেন লিঙ্গ রূপান্তরের কারবার। নিজেই সার্জন বনে যান। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, সমাজের একটি অংশ সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির বাইরে থাকে। ফলে অপরাধী চক্র এরই রূপান্তরকামীদের ব্যবহার করে মাদক কারবারসহ নানা ধরনের অপকর্ম করায়। 

উপ-পুলিশ কমিশনার এইচএম আজিমুল হক জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখে রূপান্তরকামী পুরুষদের টার্গেট করে ঘনিষ্ঠতা বাড়াত হিজড়াদের ‘গুরুমা’ কেন্দ্রিক চক্রের সদস্যরা। এরপর ওই পুরুষদের নিজেদের ডেরায় নিয়ে আদর আপ্যায়নের মাধ্যমে আস্থা অর্জন করে দলে রেখে দেওয়া হতো। এরপর তাদের শরীরে বিশেষ হরমন প্রবেশ করানো শুরু হতো। একপর্যায়ে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরের প্রলোভন দেখানো হতো। বিভিন্ন কৌশলে এই রূপান্তরকামী পুরুষদের হাদিউজ্জামানের পারলারে এনে অপারেশন করে কেটে ফেলা হতো পুরুষাঙ্গ। স্তন বৃদ্ধির জন্য শরীরে স্ত্রী হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হতো। রূপান্তরের কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের ওষুধ বিদেশ থেকে আনা হতো। হাদিউজ্জামান তাঁর পারলারে রূপান্তরকামী পুরুষদের অস্ত্রোপচারের পর কৃত্রিম স্তন প্রতিস্থাপনের কাজও করতেন। এ ছাড়া গায়ের রং ফরসা করা ও ঠোঁটের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সার্জারি করতেন তিনি। 

হাদিউজ্জামানের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা আজিমুল হক বলেন, একসময় খুলনায় এক সার্জনের সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কৌশল রপ্ত করে ফেলেন হাদিউজ্জামান। পরে ঢাকায় এসে নিজেই বনে যান সার্জন। খুলে বসেন ‘লেজার বিউটি পারলার’ নামে একটি পারলার। সেখানে রূপান্তরকারী পুরুষদের অস্ত্রোপচার ও লিঙ্গ পরিবর্তনের কাজ করা হতো। প্রতিটি সার্জারির আগে হাদিউজ্জামান ১ লাখ করে টাকা নিতেন। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর কোনো সনদ নেই। নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে শতাধিক পুরুষের অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসা করেছেন। হিজড়াদের গুরু মায়েরা এই চক্রের মাঠপর্যায়ে কাজ করেন উল্লেখ করে আজিমুল হক বলেন, ‘এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তৃতীয় লিঙ্গের গুরু মায়েরা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার চার আসামিকে রমনা থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ডে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আর কারা জড়িত তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে। যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ দিকে রূপান্তরকামী পুরুষদের অবৈধভাবে অস্ত্রোপচার ও হরমোন চিকিৎসায় গুরু মাদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হিজড়া কল্যাণ ফেডারেশন। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবিদা সুলতানা মিতু বলেন, ‘অনেক পুরুষ স্বেচ্ছায় তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হন। এর কারণ তাঁরা তখন বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারেন। পথে ঘাটে চাঁদাবাজি ছাড়াও বিভিন্ন মাদক চক্র তাঁদের ব্যবহার করে।’

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories