মৃণাল চৌধুরী সৈকত
(পর্ব-১)
‘মানুষ’ শুধুমাত্র তিনটি বর্ণ একত্রিত হয়ে যার সৃষ্টি। এই মানুষ শব্দের অর্থ কি ? আমরা বই পুস্তকে পড়েছি মানুষম্ব শব্দ থেকে ‘মানুষ’ শব্দটি এসেছে। ‘মানুষম্ব হচ্ছে একটি আরবী শব্দ। মানুষ শব্দটির মূল আরবী ধাতু হচ্ছে ‘উনসুনম্ব, আর উনসুন মানে হচ্ছে স্নেহ ও ভালোবাসা। যার মধ্যে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে দেয়া হয়েছে আরবীতে তাকে বলা হয় ‘মানুষম্ব। এই মানুষ শব্দের জন্যে পবিত্র কোরআনে সৃষ্টিকর্তা যে কয়টি শব্দ ব্যবহার করেছেন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ইনসানম্ব। শুনে হয়ত অনেকেই আশ্চর্যানিত হয়ে যাবেন, কারণ সে ইনসান শব্দটিও এসেছে ‘উনসুনম্ব থেকে, অর্থাৎ স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে। এবার অন্য ভাষায় যদি বলা হয়, তবে দেখা যাবে, মান+হুশ=মানুষ। অর্থাৎ যার মান-সম্মানবোধ থাকবে, লাজ-লজ্জা থাকবে এবং হুশ তথা জ্ঞানবুদ্ধি থাকবে তাকেই মানুষ বলা হয়। ঈশ্বরের সৃষ্ট সকল কিছুর মধ্যে যেহেতু মানুষ শ্রেষ্ঠ, তার মানে তাকে অবশ্যেই জ্ঞান-বুদ্ধির অধিকারী হতে হবে, মান-সম্মানবোধ থাকতে হবে,সৃৃষ্টিকর্তার আরাধনায় সামিল হতে হবে, মানবিকতাবোধ সম্পন্ন হতে হবে, তবেই তিনি ‘মানুষ’।অনেকের মতে, মানুষ হচ্ছে বিয়ার। এই বোতল হচ্ছে মানুষের মনের সংকীর্ণতা। সে তার আসে পাশে অনেক কিছুই দেখে এবং অনুপ্রাণিত হয়। সে ভাবে, আমি যদি এটা করতাম, যদি সেটা করতাম। মানে সেই রবি ঠাকুরের কবিতা, “ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুইন…”। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই করা হয়ে ওঠে না। নিজের মনের সংকীর্ণতায়, নিজের কমফোর্ট জোনের মধ্যে বসে, বাইরের নিরাপত্তাহীনতার স্বপ্ন ভঙ্গের আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে শেষ হয়ে যায় একদিন এই সেই ‘মানুষ’। আর যারা এই গন্ডি পার করে ওঠার সাহস দেখায় তারা হয়ে ওঠে জীবনপথের পথিক, মানুষের সফলতার প্রতিমূর্তি। কিন্তু এই প্রতিমূর্তিও সংখ্যা নহোতই কম বটে। কেন না খুব কম সংখ্যার মানুষ-ই আছে, যাঁরা বর্তমান সমাজে স্বপ্ন পূরণে সফলতা পায়। অত:পর, আমি বলবো, মানুষ হচ্ছে সেই জীব, যার মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা সত্তেও, নিজের সংকীর্ণতার গন্ডি’র মধ্যে জীবন যাপন করে স্বপ্ন দেখতে দেখতে-ই এক সময় শেষ হয়ে যায়। হয়তবা আমার জীবনটাও অনেকটা সংকীর্ণতায় ভরা! ঘামাগুড়ি থেকে টুকটাক পায়ে হাটা, তারপর স্কুল, কলেজ, কর্ম, বিয়ে, সংসার, পিতৃত্ব, মধ্য বয়সী জীবনযাপন তারপর একদিন অসমাপ্ত জীবনপথের পথিক, অবশেষে “একটি স্বপ্নে’র জরাজীর্ণ দেহাবশেষ”। জন্ম থেকে মৃত্যু শুধুই স্বপ্ন দেখা, যে স্বপ্নের শেষ পরিণতি বা প্রাপ্তি হতে পারে, বড়জোর বৃদ্ধাশ্রম কিংবা পথ ভিখারী অথবা অনাহারে বিনা চিকিৎসায় পথেঘাটে মৃত্যু নতুবা স্বপ্ন ভঙ্গের শোকে আর নিধারুণ কষ্টের যন্ত্রণায় আত্বহত্যা, সর্বপরি অযতেœ-অবহেলায় জরাজীর্ণ একটি দু:স্বপ্নের অকাল মৃত্যু। আর সেই স্বপ্ন দ্রষ্টার অকাল মৃত্যু’র আগেই যদি কেউ নিজেকে সামলে নিতে জানে তবেই হয়ত স্বপ্ন পূরণে সফলতা পায় একজন ‘মানুষ’। আজ আমি অসহায়, দরিদ্র তবে একজন স্বপ্নবাজ মানুষের কথা বলতে এসেছি, এ সমাজ-সংসারে বসবাসরত শতকোটি মানুষের ভীড়ে। শিশু থেকে কিশোর, যুবক থেকে মধ্যবয়সে যার স্বপ্ন ভঙ্গের ইতি হয় অকাল পক্ষতায়। জীবন, সংসার, স্ত্রী-পুত্র-সন্তানাধি যার কাছে স্বপ্নের ঠিকানা আগামীর অথচ সংসার, জীবন-যৌবনের যুদ্ধে পরাজিত স্বপ্নবাজ সেই মানুষ’টির স্বপ্ন অকালেই ঝড়ে যায় অতৃপ্ততায় অনায়াসে। বাস্তবিক সেই মানুষের অসমাপ্ত জীবনপথের স্বপ্নভঙ্গের গল্প ।। ————-চলবে
Leave a Reply