রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান ঢোকার সময় পদদলিত হয়ে নিহত-৪

রিপোর্টারের নাম
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৭৮ বার

আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে ঢুকতে চমন বর্ডার ক্রসিংয়ে ভিড় করছেন আফগান নাগরিকরা। যদিও এই ক্রসিং সাময়িক বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান।মার্কিন সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনদিন পার হয়েছে। কাবুল বিমানবন্দরও এখন বন্ধ, রয়েছে তালেবানের দখলে। তাই দেশ ছাড়তে ভরসা কেবল স্থল সীমান্ত। আর তাই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সীমান্তে ঢল নেমেছে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক আফগান নাগরিকদের। তীব্র ভিড় আর হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে নিহত হয়েছেন চার জন।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের আফগান সীমান্তবর্তী চমন বর্ডার ক্রসিংয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড।সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুল বিমানবন্দর বন্ধ হতে না হতেই সীমান্তে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে আতঙ্কিত আফগান শরণার্থীদের। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে আগেই চমন সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সীমান্ত পেরোতে মরিয়া কয়েক হাজার আফগান শরণার্থী জোর করে কান্দাহারের স্পিন বোল্দাক শহর থেকে চমন বর্ডার ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হন অনেকে।তবে বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, চমন বর্ডার ক্রসিংয়ে বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়িতে কমপক্ষে এক আফগান নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম সফি উল্লাহ। ৬৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির ছেলে শহীদ উল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলেও জানিয়েছে মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমটি।এদিকে টুইটারে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আপলোড করেছেন আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজের সাবেক একজন উপস্থাপক মুসলিম শিরজাদ। সেখানে দেওয়া বার্তায় পদপিষ্ট হয়ে নিহত আফগানের সংখ্যা চার বলে জানানো হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকশো আফগান নাগরিক বিশৃঙ্খলভাবে জোর করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।এদিকে চমন বর্ডার ক্রসিংয়ের পাশাপাশি পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশের তোরখাম সীমান্তেও ভিড় করতে শুরু করেছেন আফগান শরণার্থীরা। কার্যত একই অবস্থা ইরান সীমান্তে ইসলাম কালা ও তুর্কিমেনিস্তান সীমান্তর তোরঘুন্ডি এলাকায়ও। কাবুল বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে চাইছেন আতঙ্কিত আফগানরা।আফগানিস্তানের পশ্চিমের শহর হেরাতে চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে নিজেদের অধিকার রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর নারী শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বহু নারী। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তালেবানের নতুন সরকার গঠিত হলে নারী অধিকার আবারও খর্ব হতে পারে। অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন তারা। খবর আল জাজিরার।তালেবান নেতারা গত মাসে ক্ষমতা দখলের পর বার বার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন নারী ও শিশু অধিকার সংরক্ষণে, তবে তা শরিয়া আইন মোতাবেক। তারপরও আফগান নারীদের শঙ্কা আবারও সেই আগের মতো কঠোর নিয়ম চালু করতে পারে তালেবান।আগস্টের শেষে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরির দায়িত্বে থাকা নারীরা যেনো বাড়িতে থাকেন।আফগানিস্তানে নতুন সরকারের ঘোষণা শিগগিরই আসতে পারে বলে উল্লেখ করে এক সাক্ষাতকারে তালেবানের উপপ্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই বলেন, নতুন সরকারে নারীরা উচ্চ পর্যায়ে এখনই কাজ করার অনুমতি পাবেন না, তবে নিম্ন পর্যায়ে কাজ করার জন্য অনুমতি পেতে পারেন।অনেক আফগান নাগরিক শঙ্কা প্রকাশ করেন তালেবানের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসনের পুনরাবৃত্তি নিয়ে। ওই সময় ইসলামিক আইনের অজুহাতে প্রকাশ্যে শাস্তি ও নারী অধিকার ক্ষুন্ন করার বিস্তর অভিযোগ আছে তালেবানের বিরুদ্ধে।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories