হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ইরানের একটি প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর এটি এই সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি ও নৌপথ খুলে দেয়ার বিষয় থাকলেও পারমাণবিক ইস্যুতে কোনও অগ্রগতি না থাকায় বিতর্ক বাড়ছে।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্তুষ্ট নন বলে সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে এক বৈঠকে ট্রাম্পকে তেহরানের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আরোপিত অবরোধ তুলে নেয়ার কথাও রয়েছে।
প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও সমাধানের কথা উল্লেখ নেই বলে একাধিক মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় তাদের এ অধিকার রয়েছে। তারা ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অবশ্য ট্রাম্প ঠিক কোন বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট— তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে আছেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই প্রস্তাব মেনে নিলে ট্রাম্পের জন্য প্রকাশ্যে বিজয় দাবি করা কঠিন হয়ে পড়বে
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করে না। আমাদের সীমারেখা স্পষ্ট এবং প্রেসিডেন্ট কেবল এমন চুক্তিই করবেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ভালো।’
এর আগে গত রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এই প্রস্তাবের খবর প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে এই প্রস্তাব তুলে দেন। অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরই পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প ইরানের আরেকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা আলোচনা হঠাৎ বাতিল করে দেন। মার্কিন কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরান তাদের আলোচকদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ছাড় দেয়ার অনুমতি দেয়নি।
মূলত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলতে থাকলে ইরান কতটা অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে পারবে এবং এর প্রভাব তাদের অর্থনীতিতে কতটা পড়ছে সেটিই বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে তেলের উৎপাদন দ্রুত মজুদের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, অথচ কূপগুলো সহজে বন্ধ করা যায় না। এগুলো বন্ধ করলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করে, এই চাপের মুখে ইরান শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসবে।
তবে অন্যরা মনে করছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত ইরানের অবস্থানকে আরও কঠোর করে তুলেছে।
Leave a Reply