দীর্ঘ জীবনকাল তথা কিভাবে দীর্ঘায়ু পাওয়া যায় তার রহস্য নিয়ে নানা গবেষণা চললেও, ১১১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা বলছে— সহজ কিছু অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ দীর্ঘ জীবনের চাবিকাঠি। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃত লুইস কানো জানিয়েছেন, জটিল কোনও নিয়ম নয়, বরং নিয়মিত জীবনযাপনই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ১১১ বছর বয়সী লুইস কানো তার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের পেছনে থাকা সহজ কিছু অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন। কলম্বিয়ায় ১৯১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া কানো বর্তমানে নিউ জার্সির লিন্ডেনে বসবাস করছেন।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ‘লংগেভিকোয়েস্ট’ তার বয়স আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে তাকে বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তিদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। অবশ্য তিনি কখনোই কোনও ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পাননি।
এক শতাব্দীরও বেশি সময়জুড়ে নানা পরিবর্তনের সাক্ষী কানো একসময় কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। পরে তিনি একটি বাস কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই কোম্পানি গ্রামীণ এলাকাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করত। ফক্স ৫ নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জীবন গড়ে তোলাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
শতবর্ষ পেরিয়ে অসাধারণ এই বয়সে পৌঁছেও কানোর জীবনদর্শন খুবই সহজ। আধুনিক স্বাস্থ্যধারার পেছনে না ছুটে তিনি কয়েকটি নিয়ম মেনে চলেন। তার তিনটি মূল অভ্যাস হলো সারা জীবনে কখনোই ধূমপান বা মদ্যপান না করা, নিয়মিত ভালো ঘুম যেন হয় তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা।
এছাড়া তার খাদ্যাভ্যাসও তার দীর্ঘ জীবন পাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সবজি-সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে আসছেন, যেমন শিম, মরিচ, অ্যাভোকাডো ও পেঁয়াজ। ১০৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বাগানে পরিচর্যার কাজ করতেন এবং মাছ ধরা, বোলিং ও বিলিয়ার্ডস খেলাসহ নানা রম কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
এছাড়া পরিবারকেও তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। তিনি তার ১০ সন্তানের মধ্যে দুজনের সঙ্গে বসবাস করছেন। তার পরিবারে রয়েছে ১১ জন নাতি-নাতনি এবং আরও পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যরা। ২০০৪ সালে তার স্ত্রী মারা যান।
বর্তমানে তিনি বিমানের উড্ডয়ন দেখা এবং নিজের দীর্ঘ জীবনের স্মৃতিচারণ করেই সময় কাটান। আর এগুলোকে তিনি জীবনের অর্জন’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।
লংগেভিকোয়েস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লুইস কানোর পরিবার জানায়, এখন তিনি (লুইস কানো) স্থানীয়ভাবে এক ধরনের পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। প্রতি বছর তার জন্মদিনে বাড়ির সামনে লাগানো সাইনবোর্ড দেখে অনেক গাড়ি হর্ন বাজিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
এমনকি শহরের মেয়র ডেরেক আর্মস্টেড একাধিকবার তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন এবং সম্প্রতি তার জীবন ও অর্জনকে সম্মান জানিয়ে একটি ঘোষণাও দিয়েছেন বলে জানান তারা।
Leave a Reply