মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টঙ্গীতে অপহরণ করে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে প্রাণে রক্ষা টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুন.বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য টঙ্গীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শাহবাগে হামলার ঘটনায় ঢাবি প্রশাসনের কাছে ডাকসুর ৬ দাবি যদি নিজের দেশ নিয়ে বেশি অহংকার থাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই শত্রুপক্ষ দাঁড়িয়ে যাবে: রিজভী হরমুজ নিয়ে ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প ইরানের নতুন প্রস্তাব: হরমুজ খুললে বা না খুললে— তেলের বাজারে কী হতে পারে? ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন শেলটেক আছে এগলাল’স এবিসি চ্যারিটি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে

ইরানের নতুন প্রস্তাব: হরমুজ খুললে বা না খুললে— তেলের বাজারে কী হতে পারে?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক বাজার নতুন সপ্তাহ শুরু করেছে এক ধরনের দ্বৈত চাপে। একদিকে ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা, অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরানের নতুন প্রস্তাব, ট্রাম্পের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জ্বালানি সরবরাহে বাধা, সব মিলিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি বলছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অনিশ্চয়তার মধ্যে বৈশ্বিক বাজার নতুন সপ্তাহ শুরু করেছে অনেকটা সতর্ক অবস্থানে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা ভেস্তে যাওয়ার পর বাজারে একদিকে ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা থাকলেও অন্যদিকে নতুন করে ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
গত শনিবার ইসলামাবাদে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করেন। তিনি বলেন, তেহরানের নেতৃত্বে ‘গুরুতর দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি’ রয়েছে।
এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে, তবে পারমাণবিক আলোচনা পরে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চুক্তি করার চেষ্টা এখনও চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত রোববার সংক্ষিপ্ত সফরে আবার ইসলামাবাদে যান। পাকিস্তান উভয়পক্ষের মধ্যে এই আলোচনা আবারও পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, ফোনেই আলোচনা হতে পারে। পরে আরাগচি মস্কোর উদ্দেশে ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সোমবার তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। আর এটি জ্বালানি বাজারে ঝুঁকির প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে। চলতি বছরের জুন মাসে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ০ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৯৫ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গোল্ডম্যান স্যাকস এখন ধারণা করছে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানেই থাকবে। তারা পূর্বাভাস বাড়িয়ে ২০২৬ সালের শেষ দিকে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার হবে বলে জানিয়েছে, যা আগে ৮০ ডলার ধরা হয়েছিল।
ব্যাংকটি বলছে, পারস্য উপসাগরে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেরি হওয়ায় বাজারে চাপ বাড়ছে। এখন জুনের শেষের আগে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এপ্রিল মাসে বৈশ্বিক মজুত থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে বলে হিসাব করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের অনেকেই এই ধারণার সঙ্গে একমত। গ্লোবাল এক্স ইটিএফস-এর বিনিয়োগ কৌশলবিদ বিলি লিউং বলেন, ‘বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনার ঝুঁকি এখনও সামনে রয়েছে’। তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে সরবরাহ আবার শুরু হলেও মজুত কমে যাওয়ায় বাজারে চাপ বজায় থাকতে পারে।
ইনভেসকো মনে করছে, পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থা না ফিরলে এ বছর ব্রেন্ট তেলের দাম ৮০ ডলারের নিচে নামবে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাধা যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, অর্থনৈতিক প্রভাব তত গভীর হবে। এতে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে চাহিদা কমে যেতে পারে, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর অঞ্চলে।
এদিকে শেয়ারবাজার এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে বৈশ্বিক বাজার প্রায় রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বাজার এগোচ্ছে।
বিলি লিউং বলেন, এই মুহূর্তে ইতিবাচক দিকটাই বেশি প্রভাব ফেলছে’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজারে অতিরিক্ত আশাবাদ তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে রিটার্ন কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কৌশলবিদ রাজত ভট্টাচার্য মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা থাকলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তি হতে পারে। তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ইতিহাসও দেখায়, সরবরাহ সংকটের পর বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ইয়ারডেনি রিসার্চের প্রধান এড ইয়ারডেনি বলেন, ১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকটে তেলের দাম দ্বিগুণ হলেও পরে বাজার নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
সোমবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।
সরকারি বন্ড বাজারেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৩২২ শতাংশ হয়েছে, আর জাপানের একই মেয়াদের বন্ডের সুদহার ২ দশমিক ৪৬৩ শতাংশে পৌঁছেছে
তেলের বাইরে অন্যান্য পণ্য বাজারেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খাদ্য সরবরাহে। বিলি লিউং বলেন এলএনজি বিষয়টি তেমন আলোচনায় না এলেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপে এর দাম যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি এবং বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
গ্যাসের দাম বাড়লে সার উৎপাদন ও কৃষি খরচও বাড়ে, যা পরে খাদ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই প্রভাব কিছুটা দেরিতে দেখা যাবে।
এ ছাড়া পরিবহন বীমা ও কৃষিপণ্যের খরচেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইনভেসকো জানিয়েছে, শুধু তেল নয়, হিলিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ও সালফারের মতো পণ্যেও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিল্প খাতেও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। আর তেমনটি হলে নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ইনভেসকোর গবেষণা প্রধান বেঞ্জামিন জোন্স বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আপাতত এই ধাক্কা সাময়িক হিসেবে দেখলেও বাস্তবে এর প্রভাব আরও জটিল হতে পারে। সব মিলিয়ে বিলি লিউং বলেন, ‘বাজার এখনও শক্তিশালী, তবে প্রযুক্তিখাতের ইতিবাচক প্রবণতা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে বাজার।’

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories