রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

অক্টোবরে করোনা’র আরেকটি ঢেউ আসতে পারে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৮০ বার

আগামী অক্টোবরে করোনার আরেকটি ঢেউ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেলিন চৌধুরী। ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন।

দেশে এক সপ্তাহে করোনায় মৃত্যু ২৭ ভাগ কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বৃহস্পতিবারের (২৬ আগস্ট) হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। এটি প্রায় দুই মাসে (৫৮ দিনে) সর্বনিম্ন মৃত্যু। এর আগে গত ২৮ জুন ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। এদিকে শনাক্তের সংখ্যাও কমেছে। গত এক দিনে শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৬৯৮ জন। শনাক্তের হার ১৩.৭৭।

দেশের হাসপাতালগুলোতেও করোনা রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ঢাকার সরকারি কোভিড হাসপাতালের ৩৮২টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৪৫টি খালি আছে বলে জানা গেছে। চার হাজার ২৭২টি কোভিড বেডের মধ্যে দুই হাজার ৪৪৩টি খালি আছে।

স্বাস্থ্য-বিধি মানার শর্তে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠগুলো ছাড়া সবকিছুই খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষার সব প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য বলেছেন।

কিন্তু ভারতে আগামী অক্টোবর মাসে করোনার নতুন ওয়েভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিনই ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বাড়ছে। ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমেই বাংলাদেশে করোনা’র দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছিলো। সীমান্ত এলাকা দিয়ে এই ভ্যারিয়েন্ট দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তাই প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ কমে এলেও এই অবস্থা স্থায়ী হবে কি-না তা নিয়ে।

ডা. লেনিন বলেন, করোনা’র প্রতিদিনের সংক্রমণ এবং মৃত্যু হার কমতে শুরু করেছে। অর্থাৎ আমরা যে দ্বিতীয় ঢেউয়ের মুখোমুখি হয়েছিলাম সেটা এখন নিম্নমুখী গতিতে আছে। আমাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে, নিম্নমুখী একই প্রবণতা ধরে রাখা। এটি নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকার কোনো কারণ নেই। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য-বিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ কিংবা বাধ্য করার বিষয়গুলো জারি রাখতে হবে। তা না হলে খুব দ্রুতই, কয়েক সপ্তাহ পরই আমরা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির ধারা আমরা দেখতে পাবো।

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক নাগাদ সংক্রমণের একটু বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। অক্টোবরে চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারে। একথা মনে রেখেই আমাদের সাবধান থাকতে হবে। অর্থাৎ, শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে দেশে করোনার সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমলেও বেড়ে চলছে ডেঙ্গু। প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে।

এ বিষয়ে ডা. লেলিন বলেন, ডেঙ্গু যে বাড়বে সেরকম পূর্বাভাস আমাদের কীটতত্ত্ববিদ, বিশেষজ্ঞ সবাই দিয়েছিলেন। যখন পূর্বাভাসগুলো দেওয়া হয় তখন যাদের সেগুলো দায়িত্বে নেওয়া উচিৎ তাঁরা কিন্তু সেগুলো করেন না। যখন ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে তখন তাঁরা তোড়জোড় শুরু করেন এবং জাঁকজমকের সংগে নানান ধরণের কাজগুলো করেন। ততদিনে কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এখন যাই করুক সেটি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দু’টো কাজের কথা বলেন ডা. লেনিন। যেগুলো আমাদের বছরজুড়ে করতে হবে। একটি হলো- মশা মারা ওষুধ বছরজুড়েই ছিটাতে হবে। দ্বিতীয়ত, মশার যেসব চারণভূমি, এরমধ্যে নাগরিকদের বাড়িঘর, পাবলিক প্লেস, স্বায়ত্তশাসিত বড় জায়গাগুলো যেমন- বিমানবন্দর, সিভিল এভিয়েশন, রেলওয়েল, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালতে যাতে মশার প্রজনন না হয় সেজন্য এগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories