বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে সমিতির বরাদ্ধকৃত লোনের টাকা না পেয়েও সেই টাকা পরিশোধ না করার অপরাধে বৃদ্ধ রেহানা এখন জেলে

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৮ বার

টঙ্গী নুপুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি কর্তৃপক্ষের হয়রানী ও কৌশলগত প্রতারণার শিকার হয়ে রেহানা বেগম (৫৮) নামে এক বৃদ্ধ মহিলা জেল খাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালের ১০ মার্চ টঙ্গীর মাছিমপুরস্থ নুপুর মাল্টি পারপাস নামের একটি সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হক এবং তার সহযোগী মো. খালেক, এবং শাহিদা বেগম মিলে স্থানীয় বিধবা রেহানা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের নামে তার কাছ থেকে দুটি সাদা ব্যাংক চেক এর পাতা (যার নম্বর-এসবি-১০-পিএইচ ৩৯৯১৫০২ জনতা ব্যাংক টঙ্গী কর্পোরেট শাখা) এবং দুটি একশত পঞ্চাশ টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল (রেহানা টিপসই যুক্ত) স্ট্যাম্প, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং ২ কপি ছবি নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত ঋণের ৫০ হাজার টাকা রেহানা বেগমকে না দিয়ে বরং শাহিদা বেগমের কাছ থেকে একই কায়দায় তার স্বাক্ষরিত কাগজপত্র নিয়ে (৫০,০০০+৫০,০০০=১.০০০০০) এক লক্ষ টাকা শাহিদাকে প্রদান করে। অথচ সাদা ব্যাংক চেক এর পাতাগুলোতে এবং ১৫০ টাকা মূল্যের সাদা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রেহানা এবং শাহিদা দু-জনকেই আলাদা আলাদা ভাবে এক লক্ষ করে (১.০০০০০+১.০০০০০০) দুই লক্ষ টাকা ধার দেয়া হয়েছে মর্মে নিজেদের ইচ্ছে মতো লিখে নেয় মো. সামিউল হক এবং তার সহযোগী মো. খালেক গং এবং অপপ্রচার করে যে, সমিতি কর্তৃপক্ষ রেহানা বেগম ও শাহিদা বেগমকে দুই লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছে।
পরবর্তীতে রেহানা বেগম জানতে পারেন, তাকে টাকা না দিয়ে মো. সামিউল হকগং কৌশল অবলম্বন করে শাহিদা বেগমকে (৫০.০০০+৫০.০০০) মোট এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছে। টাকা না পেয়েও ঋণগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে রেহানা বেগম গত ২৯ জুন ২০১৩ ইং তৎকালীন টঙ্গী মডেল থানার সাধারণ ডায়রী নং-১২৭২ রজু করেন। পরবর্তীতে ১০ এপ্রিল ২০১৪ দুপুর বেলা এক লক্ষ টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধের দাবীতে মো. সামিউল হক, মো. খালেক, শাহিদা বেগম এবং জনৈক মর্জিনা বেগম মিলে রেহানা বেগমের ভাড়া বাসায় গিয়ে রেহানা বেগমসহ তার ছেলে মাসুম ও অন্যান্যদের মারধর করে এবং মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এঘটনার পর রেহানা বেগম তার দেয়া টিপসইযুক্ত ব্যাংকের চেকের সাদা দুটি পাতা, দুটি নন জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পসহ ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফেরৎ চেয়ে এবং ঘটনার সুষ্ট তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্দ্যেশে নিজে বাদী হয়ে উপরোক্ত ৪ জনের বিরুদ্ধে ২৩ এপ্রিল ২০১৪ সালে টঙ্গী মডেল থানার সাধারণ ডায়রী নং-১১৫৬ রজু করেন। তারপরও প্রতারক চক্রটি কাগপত্র ফেরৎ না দিয়ে উল্টো রেহানা বেগম এবং তার ছেলে মাসুমের নিকট এক লক্ষ টাকা দাবী করে বিভিন্ন সময় মামলা দিয়ে হয়রানীসহ প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকলে রেহানার ছেলে মাসুম বাদী হয়ে গত ২৭ মে ২০১৫ ইং জনৈক মো.দুলাল ও মো. সামিউল হককে বিবাদী করে টঙ্গী থানার সাধারণ ডায়রী নং- ১৪৪০ রজু করেন। ইতিমধ্যে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল হক রেহানা বেগম এবং শাহিদা বেগমের নামে জমাকৃত চেক ডিজ অনার করে দুজনের কাছে দু-লক্ষ টাকা ধার দেয়া এবং উত্তোলন করতে না পারার অজুহাতে বিজ্ঞ সিনি: জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ গাজীপুে বরাবর সিআর মোকদ্দমা নং-৪১০/২০১৩ রজু করে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের টাকা নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই মামলায় শাহিদা বেগম জামিনে থাকলেও বৃদ্ধ রেহানা বেগম জেলখানায় বন্ধি রয়েছে বলে তার ছেলে মাসুম জানায়।
মাসুদ দাবী করেন, আমার বৃদ্ধ মা কোন টাকা পায়নি, বরং সামিউল ও দুলাল ষড়যন্ত্র করে মায়ের কাছ থেকে সাদা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে এখন মামলঅয় জড়িয়ে টাকা দাবী করছে। আমি সুষ্ট তদন্ত পূর্বক এর বিচার চাই।

আমাদের সাথেই থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো খবর

Categories